৭০০ বছরের পুরনো এক যোদ্ধার মূর্তি নিয়ে চাঞ্চল্য

3 weeks ago 16

এই মূর্তিটি ৭০০ বছরের পুরনো

এই মূর্তিটি ৭০০ বছরের পুরনো

প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণায় প্রতিনিয়তই বিশ্ব তার অতীতকে খুঁজে পাচ্ছে। সেই অতীত হাত্রে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর নানান তথ্য। প্রাচীন বিভিন্ন হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার সন্ধান মিলছে এভাবেই। বিশ্ব মুখোমুখি হচ্ছে এসব কিছুর। গেল বছর অক্টোবরে উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে এক অদ্ভুত ধরনের মূর্তি আবিষ্কার করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।   

ছোট্ট একটা রৌপ্যমূর্তি। আয়তনে ২ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি। সূক্ষ্ম কারুকাজের মাধ্যমে তাতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এক যোদ্ধার মূর্তি। তবে তা স্বাভাবিক কোনো ঢাল তলোয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সন্য নয়। একেবারে অন্য এক ভঙ্গি সেটি। একটি ছাগলের পিঠে রাখা এক শামুকের খোলস, তার থেকে খানিকটা বেরিয়ে এসে প্রার্থনা করছেন সেই সৈন্য।

মূর্তিটি ঘাম ঝরিয়েছে বিশ্বের বড় বড় গবেষকদেরও মূর্তিটি আবিষ্কারের পর থেকেই এই নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। শুরুতে এর অর্থোদ্ধার করতে হিমশিম খেয়েছেন গবেষকরা। বিশ্বের তাবড় তাবড় গবেষকদের ঘোল খেতে হয়েছে কয়েক দফা। কোনো সিন্ধান্তেই পৌঁছাতে পারছিলেন না তারা। খুবই অস্বাভাবিক মূর্তি এটি। মূর্তিটি কমপক্ষে ৭০০ বছরের পুরনো হবে। ধারণা করা হয়, আনুমানিক ত্রয়োদশ শতকে তৈরি হয়েছিল এই মূর্তি। তখন ব্রিটেন জুড়ে চলছে সামন্ততন্ত্র, মধ্যযুগীয় যুদ্ধের মহড়া। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে পরাজিত কোনো সৈনিককে নিয়েই এহেন বিদ্রূপ চলত ব্রিটেনে। 

তাই হয়তো কেউ বিদ্রুপ করেই এই মূর্তিটি তৈরি করেছিল। রুপার গিল্ট করা এই মূর্তি আসলে কিছুই নয়, বিদ্রুপের প্রতীক। হ্যাঁ, এমনটাই অনুমান করছেন তারা। কিন্তু এ কেমন রসিকতা? এই শতকের সবচেয়ে ‘অস্বাভাবাবিক’ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর সম্প্রতি এর অর্থ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেন ব্রিটিশ মিউজিয়ামের বিশেষজ্ঞরা।

কারিকার্য করা অয়না এবং চুলের কাটা সদৃশ লোহার বস্তুগুলো পাওয়া যায়  তবে এই ‘শামুক-মানুষ’-কে যুদ্ধের কোনো মেমেন্টো বা শোপিস ভাবলে ভুল হবে। আসলে এই ধাতব মূর্তিটি ব্যাজ হিসাবেই উর্দিতে ধারণ করতেন বিজয়ী সেনাধ্যক্ষ। অথবা চামড়ার কোমরবন্ধনী কিংবা স্ট্র্যাপের সঙ্গেও সংযুক্ত করা হত তার পদ হিসেবে। মধ্যযুগীয় বেশ কিছু পাণ্ডুলিপির চিত্রণ থেকেই এমনটা জানাচ্ছেন ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কিউরেটর নিঙ্ক। সেই বই থেকেই এই গবেষক তুলে আনেন শামুক। আসলে মধ্যযুগীয় ইউরোপে ভীরুতার প্রতীক হিসেবে শামুক ব্যবহৃত হত। 

এটিকে ডিজিটালের যুগের ‘মিম’ এর সঙ্গে তুলনা করা যেতেই পারে। কেননা হাতে স্মার্টফোন থাকার দরুন খুব সহজেই যে কেউ এমন মিম তৈরি করছে। তা আবার ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বের নানান প্রান্তে। ত্রয়োদশ শতকে স্মার্টফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের কল্পনাতীত এক বিষয়। তবে সেই সময়ের পরিস্থিতিও ছিল আজকের মতোই। শুধু ডিজিটালের বদলে এই ধরণের মূর্তি দিয়েই হেয় করা হত জীবন-যুদ্ধে হেরে যাওয়া মানুষদের। আর সেই কারণেই কিউরেটর নিঙ্ক এই ভাস্কর্যকে ‘মধ্যযুগীয় মিম’ বলেই চিহ্নিত করেছেন। সত্যিই, আশ্চর্যজনক বললেও যেন কম বলা হয়। 

মধ্যযুগীয় এই সিলটি পাওয়া যায় এখই জায়গায় মূর্তিটি সঙ্গে পাওয়া যায় আরো বেশ কিছু নিদর্শন। যা সেই সময়ের অনেক পরস্থিতি জানান দেয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মধ্যযুগীয় সোনার সিল। যাতে একটি হাতির চিত্র আঁকা ছিল। এছারাও পাওয়া যায় আরো কিছু লোহার বস্তু এবং আয়না। এগুলো হয়তো নারীদের ব্যবহার্য চুলের কাটা ছিল। এগুলো পাওয়া যায় বিভিন্ন কফিনের মধ্যে ছিল। 

সূত্র: সিএনএন 

Read Entire Article