২৯ মার্চ ১৯৭১: কেরানীগঞ্জে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাগুলি

1 month ago 24

পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাগুলি

পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাগুলি

২৫ মার্চের গণহত্যার রেশ কাটেনি এখনো। শহর ছেড়ে গ্রামের পথে মানুষের ঢল। যারা পারছেন, সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন। পথচারীদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথে সেনাবাহিনী চেকপোস্ট বসিয়েছে। পথচারীদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করতেও তৎপরতা দেখা যায়। ২৯ মার্চ সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কারফিউ তুলে নেয়া হয়।

এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিছিন্নভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাগুলি হতে থাকে। এদিন রাতে ঢাকায় একশর মত বাঙালি ইপিআর সদস্যকে পাকিস্তানি সেনারা প্রেসিডেন্ট হাউস থেকে তিনটি দলে ভাগ করে রমনা কালীবাড়ির কাছে নৃশংসভাবে হত্যা করে। রাত দেড়টার দিকে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে কুমিল্লার বাসা থেকে পাকিস্তানি সেনারা তুলে নিয়ে যায়। পাকিস্তান আইনসভায় সর্বপ্রথম বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপনকারী ছিলেন এই ধীরেন্দ্রনাথ। তাকে ও তার বড় ছেলে দীলিপ দত্তকে পরে আর পাওয়া যায়নি।

ঢাকা-আরিচা সড়কে কল্যাণপুর ব্রিজের কাছে অবাঙালিদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এ পথে যাতায়াতকারীদের আটক ও তল্লাশি করা হয়। কাউকে সন্দেহ হলে ব্রিজের নিচে নিয়ে হত্যা করা হয়।

শহর ছেড়ে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে গ্রামে ছুটছে ২৯ মার্চ সকালে ঈশ্বরদীতে খবর আসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া বহর পাবনা থেকে বিতাড়িত হয়ে পাবনা শহরের পশ্চিম প্রান্তের মাধপুর কাঁচারাস্তা ধরে ঈশ্বরদীর দিকে এগিয়ে আসছে। কেননা পাবনা রোডে আগেই বড়বড় গাছ কেটে ও মাটি খুঁড়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যান চলাচলের অযোগ্য করে ফেলা হয়েছিল।

খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় গ্রামবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা ঘরে রাখা বন্দুক, এয়ারগান, দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, লাঠি-সোটা এমনকি ইট-পাথর নিয়ে একযোগে মাধপুর রাস্তার বটগাছের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

এইদিন সকালে ময়মনসিংহের রাবেয়া মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ে ইপিআর বাহিনী ও হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সন্ধ্যায় ঢাকা সেনানিবাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে হেলিকপ্টারে করে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। রাতে সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে তাকে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর সহচর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ ঢাকা থেকে ফরিদপুর পৌঁছান।

বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে ‘বিপ্লবী’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। এদিন স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে তিন বেলায় তিনটি অধিবেশন প্রচার করা হয়। মুক্তিকামী জনতার বাতিঘরের রূপ নেয় এই বেতার কেন্দ্র।

সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠছে মুক্তিবাহিনী ক্যাম্প ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানি বিমান বাহিনী। হামলায় শহিদ হন একজন মুক্তিযোদ্ধা। সন্ধ্যায় মুক্তিবাহিনীর অ্যামবুশে নিহত হয় পাক বাহিনীর একটি দল। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ভৈরব ও নরসিংদীর মধ্যে রেললাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। চুয়াডাঙ্গায় থেকে মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ইপিআর, আনসার, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত বাহিনী কুষ্টিয়ায় পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা করে। পাকিস্তানি বাহিনী মর্টার, মেশিনগান নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালালে মুক্তি বাহিনী তিনভাগে ভাগ হয়ে আক্রমণ চালায়।

মুক্তিযোদ্ধাদের সফল অভিযানে ৪০ জন পাকিস্তানি সৈন্য পাবনা থেকে গোপালপুরের পথে নিহত হয়। জীবিতদের অনেকে বিচ্ছিন্নভাবে রাজশাহীর দিকে যাওয়ার পথে প্রাণ হারায়। ময়মনসিংহে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল ব্যাটালিয়নের অফিসার এবং সৈনিকদের টাউন হলে একত্রিত করে বাংলাদেশের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ।

পাকিস্তানি বাহিনী চট্টগ্রাম সেনানিবাসের বাইরে এসে মেডিকেল কলেজ ও নিকটবর্তী পাহাড়ে সমবেত হয়। সন্ধ্যার দিকে পাকিস্তানিরা প্রথম আক্রমণ করে। মুক্তিবাহিনী সেই আক্রমণ ব্যর্থ করে দেয়।

Read Entire Article