২৮ মার্চ ১৯৭১: পাকবাহিনীর দখলে চলে যায় চট্টগ্রাম

1 month ago 14

বাঙালি সেনাদের বহুমাত্রিক আক্রমণ করে পাকবাহিনী

বাঙালি সেনাদের বহুমাত্রিক আক্রমণ করে পাকবাহিনী

১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চের আজ ঐতিহাসিক ২৮ তারিখ। এইদিন জল-স্থল-আকাশ থেকে বহুমাত্রিক আক্রমনে বাঙালি সেনারা পিছিয়ে গেলে পাকিস্তান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় চট্টগ্রাম। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাঙালী সেনা এবং যশোর ও বরিশালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক সাফল্য পায়। অন্যদিকে লন্ডনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিক্ষোভ সারাবিশ্বে পৌছে দেয় যুদ্ধের বার্তা।

২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা শহরের পুলিশ, ইপিআর, ছাত্র-শিক্ষক, জনতা যার কাছে যা ছিল তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদিকে স্বাধীনতার ঘোষণার সময় চট্টগ্রাম ও আশাপাশের অধিকাংশ এলাকা বাঙালি সেনাদের দখলে থাকলেও ২ দিনের ব্যবধানেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট।

বিশ্বের ইতিহাসে জঘন্যতম ইতিহাস রচিত হয় ২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের দক্ষিণ থেকে বেলুচ রেজিমেন্ট, উত্তর থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে অগ্রসরমান পাকসেনাদের হামলায় পিছিয়ে আসার কৌশল নিতে হয় বাঙালি সেনাদের। তার সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও আকাশ থেকে বোমাবর্ষণে ২৮ মার্চ চট্টগ্রাম চলে যায় পাকিস্তানীদের নিয়ন্ত্রণে।

তবে যশোর অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যায় দুর্বারগতিতে। তাজউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলামরা পশ্চিমবঙ্গের দিকে ছুটে পথে পথে দেখেন যুদ্ধের প্রস্তুতি। ড. রেহমান সোবহান উল্টোপথে পূর্বে ত্রিপুরামুখী পথে দেখেন, সেনা ইউনিট নিয়েও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকসেনাদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে খালেদ মোশাররফ চোরাগুপ্তা গেরিলা হামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রাখেন নিজের হাতে। আন্ডরগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিতরা বরিশালের পেয়ারাবাগান থেকে যুদ্ধ শুরু করে ২৮ মার্চ থেকে, পুরো মুক্তিযুদ্ধে তারা ভারত যায়নি। এমন গোপন দলগুলো নক্সালকর্মীদের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে ২৮ মার্চ থেকে, অস্ত্রের যোগানও আসে সেখান থেকেই।

সারাদেশেই তাণ্ডব চালাতে শুরু করে পাকবাহিনী ২৮ মার্চ সকালে পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ সকাল ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেয়। পরে তা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। গণহত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২৫শে মার্চের রাতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। ২৮ মার্চ দুপুরের দিকে শহরের কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়। ঢাকা তখনও আতঙ্কের নগরী। এদিন কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দুদিনে বাংলার প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।

দুদিন বন্ধ থাকার পর ২৮ মার্চ ‘দ্য পাকিস্তান অবজারভার’ প্রকাশি হয় ২৮ মার্চ। পাকিস্তানি সরকারের বিভিন্ন প্রেস নোট আর সরকারি খবরে ভরা ছিল চার পৃষ্ঠার সেই কাগজ।পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ২৬ মার্চের বেতার ভাষণের পুরোটা অবজারভার সেদিন ছাপে। ছোট্ট করে বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তারের খবরও ছাপা হয়।

আন্তর্জাতিকভাবে এদিন বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনে বড় ঘটনা ঘটে লন্ডনে। গণহত্যার বদলা নেয়ার প্রত্যয়ে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি। এতে অংশ নেন বিদেশীরাও। 

Read Entire Article