২৪ মার্চ, ১৯৭১: সৈয়দপুর ও রংপুরে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী

2 months ago 40

সৈয়দপুরে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী

সৈয়দপুরে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী

২৪ মার্চ, ১৯৭১। সপ্তম দফা বৈঠকে বসার কথা ছিল বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়া খানের। বাতিল করা হয় সেই বৈঠক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সমাগত মিছিলকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দেন। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আমি কঠোর সংগ্রামের জন্য বেঁচে থাকব কিনা জানিনা, আপনার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, মানুষের মত স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকব, নয়তো সংগ্রামে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবো। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আরো বলেন, ‘আর আলোচনা নয়, এবার ঘোষণা চাই। আগামীকালের মধ্যে সমস্যার কোনো সমাধান না হলে বাঙালি নিজেদের পথ বেছে নেবে। আমরা সাড়ে সাত কোটি মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’ আগের দিন অর্থাৎ ২৩ মার্চ সারাদেশে প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। কালো পতাকার পাশাপাশি স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।  

এই প্রতিরোধ দিবসের খবরে ব্যানার শিরোনাম করে দৈনিক ইত্তেফাক। রবীন্দ্রনাথের গান থেকে উদ্ধৃত করে ওই শিরোনাম ছিল, “আমরা শুনেছি ঐ, মাভৈ: মাভৈ: মাভৈ:”। 

সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের গান থেকে উদ্ধৃত ওই শিরোনামসরকারের প্রতি তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলার জনগণের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। ২৩ মার্চ রাত থেকে ২৪ মার্চ সকাল পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সৈয়দপুর সেনানিবাসের পার্শ্ববর্তী বোতলাগাড়ী, গোলাহাট ও কুন্দুল গ্রাম ঘেরাও করে অবাঙালিদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে ১০০ জন নিহত এবং ১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়।

রংপুর হাসপাতালের সামনে ক্রুদ্ধ জনতা ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি সেনারা রংপুর সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় নিরস্ত্র অধিবাসীদের ওপর বেপরোয়াভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত এবং বহু লোক আহত হয়।

চট্টগ্রামে পাকিস্তানি সেনারা নৌবন্দরের ১৭ নম্বর জেটিতে নোঙর করা এমভি সোয়াত জাহাজ থেকে সমরাস্ত্র খালাস করতে গেলে প্রায় ৫০ হাজার বীর বাঙালি তাদের ঘিরে ফেলে। সেনাবাহিনী তখন জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ২০০ জন শহিদ হন।

বঙ্গবন্ধুর হুশিয়ারি মিরপুরে অবাঙালিরা সাদা পোশাকধারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় বাঙালিদের বাড়িঘরের ছাদ থেকে বাংলাদেশের পতাকা ও কালো পতাকা নামিয়ে জোর করে তাতে আগুন দেয় এবং পাকিস্তানি পতাকা তোলে। রাতে বিহারিরা সেখানে ব্যাপক বোমাবাজি করে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ভবনে আওয়ামী লীগ ও সরকারের মধ্যে উপদেষ্টা পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ ও ড. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তাজউদ্দীন আহমেদ উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান শেষ হয়েছে। এখন প্রেসিডেন্টের উচিত তার ঘোষণা দেয়া।

আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের বক্তব্য শেষ। অবিলম্বে প্রেসিডেন্টের ঘোষণার দাবি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা চলে না।

Read Entire Article