সোনাতলার রেলস্টেশনে ‘যোগাযোগ’ পাঠাগার 

1 month ago 17

বই পড়ার ফলে মানুষের মস্তিষ্কে যে উদ্দীপনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তা মানুষের মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। মানুষের শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো মস্তিষ্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীর সুস্থ রাখতে আমরা যেমন ব্যায়াম করি, তেমনি মস্তিষ্ককে সবল ও কর্মচঞ্চল রাখতে বই পড়া বিশেষ জরুরি। 

এমনই এক ব্রত নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে বগুড়া জেলার সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের অবসর সময়ে বই পড়ার আনন্দ দিতে ‘যোগাযোগ’ নামে একটি উন্মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন করা হয়েছে। 

শনিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উন্মেষ সাহিত্য সাময়িকীর উদ্যোগে ও সোনাতলার সামাজিক সংগঠন আলোর প্রদীপের বাস্তবায়নে এই পাঠাগারের উদ্বোধন হয়।

পাঠাগারটি উন্মুক্ত করেন সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন। এসময় অনলাইনের মাধমে ভিডিও কলে সরাসরি যুক্ত থেকে পাঠাগারের সার্বিক সাফল্য কামনা করে সাধারণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনদীপ ঘরাই।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমি এই উদ্যোগে সশরীরে না থাকতে পারলেও ভিডিওকলে যুক্ত হয়ে অনেক আনন্দিত। কারণ এমন একটি উদ্যোগ সত্যি অনেক প্রশংসনীয়। সোনাতলা উপজেলা থেকে আমার অবস্থান যদিও অনেক দূরে কিন্তু স্থানীয় এমন একটি উদ্যোগের খবর পেয়ে নিজের সাধ্যমতো সেখানে এই কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চেষ্টা করছি। আমি চাই মানুষ অবসর সময়টাকে বই পড়ার আনন্দের মধ্যে দিয়ে উপভোগ করুক।’  

পাঠাগারটি উন্মুক্ত করে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন সবাইকে মহান স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আসলে এমন একটি উদ্যোগের কথা যখন জানতে পারি, তখন আর না করতে পারিনি। ভেবেছি এমন একটি উদ্যোগে আমার থাকা উচিৎ। আসলে প্রযুক্তির কল্যাণে এখনকার প্রজন্মের অনেকেই বই বিমুখ হয়ে পড়ছে। ফলে আমাদের ছেলে মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে। আমরা আমেরিকা বা ইউরোপের দেশে এমন উন্মুক্ত পাঠাগার দেখতে পেলেও আমাদের দেশে এই প্রচলনটি এখনো শুরু করা যায়নি। আমি উন্মেষ সাহিত্য সাময়িকী ও আলোর প্রদীপকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন একটি ভালো উদ্যোগ নেওয়ায়’। 

‘পাঠাগারের উদ্যোক্তা উন্মেষ সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদক সাজেদুর আবেদীন শান্ত বলেন, ‘আমি নিয়মিত বিভিন্ন কাজে সোনাতলা থেকে বগুড়া বা ঢাকায় যাতায়াত করি ট্রেনে। ট্রেন বিলম্ব হওয়াতে অবসর সময় পার করতে হয়। তখনি আমার মাথায় চিন্তা এলো যে, যদি এখানে একটা উন্মুক্ত পাঠাগার করা যায়, তাহলে ট্রেনের অপেক্ষমান যাত্রীরা বিনামূল্যে বই পড়তে পারবেন ও অবসর সময় কাজে লাগাতে পারবেন। তারপর আমি এই উদ্যোগটা গ্রহণ করি।’ 

‘সামাজিক সংগঠন আলোর প্রদীপের সহযোগিতায় পাঠাগারটি উন্মুক্ত করি। এক্ষেত্রে যারা আমাদের অর্থ, বই ও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আশা করছি পাঠাগারটিতে নিয়মিত নতুন নতুন বই ম্যাগাজিন, সাহিত্য পত্রিকা ও জাতীয় পত্রিকা রাখার। এ ক্ষেত্রে আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।’

পাঠাগার প্রসঙ্গে আলোর প্রদীপ সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন সজিব বলেন, ‘আমরা চাই মানুষ বেশি বেশি বই পড়ুক। কেননা বই মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে। সেই ভাবনা থেকেই যখন সাজেদুর আবেদীন শান্ত উন্মেষের পক্ষ থেকে আমাদের এমন একটি কাজ করার প্রস্তাব দিলো, তখন সেই প্রস্তাবটি আমরা গ্রহণ করি ও বাস্তবায়নে উদ্যোগী হই। আমরা চাই মানুষ অন্তত রেলের জন্য যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, সেই সময়টা যাত্রী ছাউনিতে বসে বই পড়ুক। আনন্দে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে মন জগতকে পরিশুদ্ধ করুক।’ 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সোনাতলা উপজেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি মহসিন আলী তাহা, লেখক ও সম্পাদক প্রভাষক ইকবাল কবির লেমন, ক্রিকপ্লাটুন বগুড়া জেলার সমন্বয়ক রাশেদুজ্জামান রন। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম, আলোর প্রদীপ সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান এম এম মেহেরুল, উই আর ওয়ান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ফিরোজ কবির ফারুক, আলোর প্রদীপ সংগঠনের সদস্য রাজিবুর রহমান শীতল, সাকি সোহাগ, আলী আহসান মুজাহিদ, আল শাহরিয়ার পাপ্পু, লেখক জামিল উদ্দিন।

Read Entire Article