সত্যিকারের আয়নাবাজি! আসামি কুলসুম, জেল খাটছেন মিনু

2 months ago 54

আসামি আজাদ, জেল খাটছিলেন রকি। চট্টগ্রামে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল এ ঘটনা। সেই আলোচনার রেশ না কাটতেই ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বন্দর নগরীতে। তবে এবার পুরুষ নয়, এক নারীর হয়ে জেল খাটছেন অন্য নারী।

জানা গেছে, একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ পান পোশাককর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার গোরস্থান মাঝের পাড়া এলাকার আনু মিয়ার মেয়ে। তবে তার পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে জেল খাটছেন সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকার মোহাম্মদ বাবুলের স্ত্রী মিনু আক্তার।

সম্প্রতি বিষয়টি নজরে এলে আদালতকে জানান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মিনুকে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের জুলাইয়ে মোবাইলে কথা বলার ঘটনা নিয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় খুন হন পোশাককর্মী পারভিন। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অপমৃত্যু মামলা হলে তদন্ত শেষে বেরিয়ে আসে পোশাককর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমীর নাম। সেই মামলায় ২০১৭ সালে নভেম্বরে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম।

সেই সাজার পরোয়ানামূলে ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুম আক্তার কুলসুমী পরিচয়ে কারাগারে যান মিনু। এরপর থেকেই দুই বছর ৯ মাস জেল খাটছেন তিনি। তবে গত ১৮ মার্চ কারাগারের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান  সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় মিনুর বিষয়টি ধরা পড়ে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মহানগর হাকিম আদালতের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানামূলে ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে আসেন কুলসুম আক্তার। প্রায় এক বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তার জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

কারাগারে থাকা মিনুর ভাই মো. রুবেল জানান, ২০১৮ সালের রমজান মাসে জাকাতের টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দেয়ার কথা বলে মিনুকে ডেকে নেন একই এলাকার মরজিনা আক্তার। এরপর মিনু আর বাসায় ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। তার তিন ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।

মামলাটির বিষয়ে শুনানি করা আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ জানান, হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমী, কিন্তু তার পরিবর্তে জেল খাটছিলেন মিনু আক্তার। বিষয়টি রোববার আদালতের নজরে আনেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। সোমবার পি.ডব্লিউ মূলে মিনু আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে প্রাথমিক শুনানি হয়।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি নোমান চৌধুরী জানান, দ্বিতীয় দিনের মতো মঙ্গলবার মিনু আক্তারকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে জবানবন্দি শেষে সংরক্ষতি ছবি সম্বলিত নথিপত্র দেখে কুলসুমী আর মিনু এক নয় বলে নিশ্চিত হয় আদালত। কিন্তু এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল হওয়ায় মামলার উপনথি দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

Read Entire Article