শেষটাও সুন্দর হলো না বাংলাদেশের

1 month ago 16

দেশ ত্যাগ থেকে শুরু করে সিরিজ শুরুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক থেকে শুরু করে কোচ সবার কণ্ঠে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়। নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে যা ঘটেনি এবার তাই হবে এমন আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ-মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনরাও। কিন্তু মাঠের বাইরের প্রত্যাশা মাঠে গিয়ে মেটাতে পারেননি ক্রিকেটাররা; ফলাফল তিন ম্যাচ সিরিজের সবকটিতে হেরে হোয়াইটওয়াশ হতে হলো।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হারে ১৬৪ রানে। এর আগে প্রথম ২টিতে হারে যথাক্রমে ৮ ও ৫ উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেও ক্যাচ মিসের মহড়ায় হারতে হারতে হয়েছে ম্যাচ।

পুরো সিরিজে কেন উইলিয়ামসন ছিলেন না, প্রথম ২ ম্যাচে অভিজ্ঞ রস টেলরও ছিলেন না। আজ তিনি খেললেও সুবিধা করতে পারেননি। কিউইদের এই দুই অভিজ্ঞ সেনানী না থাকায় বড় কিছুর সুযোগ দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাদের পরিবর্তে যারা সুযোগ পেয়েছেন তারাই সিরিজে করেছেন বাজিমাত। বেসিন রিজার্ভে নিজেদের ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে দুজনে তুলে নিলেন সেঞ্চুরি; ডেভন কনওয়ে হয়েছে সিরিজ সেরা (সর্বোচ্চ ২২৫ রান)। বিপরীতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চেয়ে দেখা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।

অধিনায়ক তামিম ইকবালের এটি ছিল প্রথম বিদেশ সফর। এই সিরিজ তিনি নিশ্চয় ভুলে যেতে চাইবেন সবসময়।  টস হেরে ফিল্ডিং করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। যদিও মুশফিকুর রহিম ক্যাচ মিস করেছেন বরাবরের মতো। ভাগ্য ভালো হ্যানরি নিকোলস তাসকিনের করা একই ওভারে লিটন দাসের হাতে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। ৫৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারায় নিউ জিল্যান্ড গড়ে রানের পাহাড়।

চতুর্থ উইকেটের জুটিতে ডেভন কনওয়ে-ড্যারিল মিচেল যোগ করেন ১৫৯ রান। কনওয়ে তুলে নেন তার প্রথম সেঞ্চুরি। তার দেখাদেখি তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন মিচেলও। মুশফিক যদি ক্যাচ মিসের মতো সহজ রানআউট মিস না করতেন তাহলে ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হতো মিচেলকে। এই দুজনের সেঞ্চুরিতে নিউ জিল্যান্ড করে ৬ উইকেটে ৩১৮ রান। যা বেসিন রিজার্ভে সর্বোচ্চ। ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান ছিল ৩১৫। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই রান করেছিল নি জিল্যান্ড।

সবুজ পিচে পেসাররা ঝড় তুললেও রান দিয়েছে উদার ভাবে। সিরিজের প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই  সফল রুবেল হোসেন। গাপটিল-টেলরের পর শেষে নিশামের উইকেট তুলে নেন তিনি। ১০ ওভারে ৭০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। অন্যদিকে মোস্তাফিজ ছিলেন ভীষণ খরুচে। ছন্নছাড়া বোলিং করে দিয়েছেন ৮৭ রান, নেন মাত্র ১টি উইকেট। তাদের তোলনায় কম রান দিয়েছেন তাসকিন। তিনি ১০ ওভারে রান দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট।

৩১৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই টালমাটাল বাংলাদেশ। অধিনায়ক তামিম ইনিংসের সূচনা করেন মেডেন ওভার দিয়ে। ম্যাট হ্যানরির বলে ফেরেন মাত্র ১ রান করে। তামিমের মতো একেএকে ফেরেন সৌম্য ও লিটন। তাদেরও শিকারি হ্যানরি। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর মিথুন-মুশফিক ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। রান কম হলেও চেষ্টা করছিলেন উইকেট ধরে রাখার। খেলছিলেন দেখেশুনে সাবলীলভাবে। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারলেন না। ৩৯ বলে ৬ রান করে কাইল জেমিসনের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন স্যান্টনারের হাতে। মিথুন-মুশফিকের চতুর্থ উইকেটের জুটি থেকে আসে ৬৯ বলে ২২ রান।  

এরপর মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক পঞ্চম উইকেটের জুটিতে খেলছিলেন দারুণ। বলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তুলছিলেন রান। ৩২ বলে এই জুটি থেকে আসে ২৯ রান। ঠিক এই সময়ে হঠাৎ করে যেনো ছন্দপতন ঘটে। নিশামের এক ওভারেই ১ বলের ব্যবধানে হারাতে হয় মুশফিক-মিরাজের উইকেট। ক্রিজে থিতু হওয়া মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে ২১। অন্যদিকে মেহেদি ফেরেন ০ রানে।  

সতীর্থরা যখন উইকেটের মিছিলে তখন স্রোতের বিপরীতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। উইকেটের এক প্রান্ত নিজে আগলে রাখলেও অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না তার। মুশফিক-মেহেদিরা সবাই ফেরেন একেএকে। এর মধ্যে মাহমুদউল্লাহ তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৩ তম হাফসেঞ্চুরি। তিনি অপরাজিত ছিলেন ৭৩ বলে ৭৬ রান করে।

শুরুটা করেছিলেন ম্যাট হ্যানরি আর শেষটা করেন জেমস নিশাম। ইনিংসের ৪৩ ও নিজের অষ্টম ওভারে রুবেল-মোস্তাফিজকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন। ৭ ওভার ৪ বল করে ২৭ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। এটাই তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স। এ ছাড়া ম্যাট হ্যানরি নেন ৫ উইকেট। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে, হারতে হয়েছে ১৬৪ রানে। শুরুর মতো শেষটাও সুন্দর হলো না বাংলাদেশের।

Read Entire Article