শিবচরে দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখে মীমাংসা করেন চেয়ারম্যান

4 months ago 57

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হাওলাদার ও যৌন নির্যাতনকারী আকমাল মাদবর

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হাওলাদার ও যৌন নির্যাতনকারী আকমাল মাদবর

মাদারীপুরের শিবচরে দুই শিশুকে যৌন নির্যাতনে তিন লাখ টাকায় মীমাংসার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি থাকার বিষয়ের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. রহিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এতে অভিযুক্ত উত্তর বহেরাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার অধিদফতরে সুপারিশের কথাও জানান তিনি।

সম্প্রতি শিবচর উপজেলার উত্তর বহেরাতলা ইউনিয়নের একটি গ্রামে ১০ বছর বয়সী দুই শিশুকে জাম্বুরা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালায় প্রতিবেশী আকমাল মাদবর। পরবর্তীতে ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে গত ২০ ফেব্রুয়ারি উত্তর বহেরাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হাওলাদার নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাড়ির উঠানে মীমাংসার জন্য সালিস বৈঠক করেন।

বৈঠকে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত আকমাল মাতবরকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া তাকে ১০টি বেত্রাঘাত ও একাধিক কিল ঘুষি দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। এরপর অভিযুক্ত আকমাল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। সালিসের এতদিন পেরিয়ে গেলেও নির্যাতিত দুই শিশুর পরিবারকে জরিমানার তিন লাখ টাকা দেয়া হয়নি। এছাড়া চাপের মুখেও রাখা হয় শিশু দুটির পরিবারকে।

ঘটনা জানতে পেরে ৮ মার্চ বিকেলে নির্যাতিত শিশু দুটির পরিবারকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই রাতেই আকমালকে একমাত্র আসামি করে এবং চেয়ারম্যান সালিসের মাধ্যমে সমাধান করে দিয়েছেন উল্লেখ করে একটি মামলা করে ভুক্তভোগী শিশু দুটির পরিবার। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।

এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এলে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ১০ মার্চ এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে মাদারীপুর স্থানীয় সরকার অধিদফতর। পরে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরির্দশন করে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পায়। তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় চেয়ারম্যান কোনো অবস্থাতেই সালিস করতে পারেন না। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার অধিদফতরে সুপারিশ করা হয়েছে।

Read Entire Article