শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করতে কিছু সুপারিশ  

4 months ago 78

বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বছর ২০২১ সাল। এই বছরই ভিশন-২০২১ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের মাইলফলক ছোঁয়ার বছর। এই বছর আরও অর্থবহ, কারণ এই বছরই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনক বঙবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালনের বছর। আমরা নতুন পদযাত্রায় ভিশন-২০৪১ এর যাত্রা করেছি এই বছরই। 

আজ ২৫ মার্চ, করোনা মহামারির দ্বিতীয় বর্ষে দাঁড়িয়ে সাহস নিয়েই আগামীকাল (২৬ মার্চ) উদযাপন করতে যাচ্ছি স্বাধীনতা দিবস-২০২১ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। আমাদের মৌলিক চাহিদার মধ্যে শিক্ষা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিগত সময়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করার আগে বলতে হবে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কতটা উন্নত ছিল সেটা বড় কথা নয়, এই শিক্ষাব্যবস্থায়ই ছেলেমেয়রা পড়াশোনা করে দেশকে উন্নয়নশীল দেশে দাঁড় করিয়েছে। হয়তো আর কয়েক বছরে নিরক্ষর মুক্ত হবে পুরো দেশ। তবে, শিক্ষাকে আরও কতটা ঢেলে সাজানো যায়, সঙ্গে আরও বেশি আনন্দদায়ক করা যায়, সেই বিষয়গুলোই আজ জানবো।   

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রথম কুদরতে খুদা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। সেই শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট দেয় ১৯৭৪ সালে। তারপর এই দেশে সর্বমোট ৬টি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। সর্বশেষ কমিশনের নাম কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন (২০০৯)। এই কমিশনের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ তৈরি করা হয়, যা জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ তৈরি হয়েছে। এবার সময় এসেছে ২০৪১ সালকে সামনে রেখে নতুন শিক্ষা কমিশন গঠন করে যেখানে কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশনকে পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন ও যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা যাবে।    

করোনার মহামারি নিয়েই হয়তো আগামীর সময়টা মোকাবিলা করতে হবে। করোনাকালীন সময়টা ভাবনায় রেখে আমাদের ভাবতে হবে আগামীর শিক্ষানীতি কেমন হবে। ভাবতে হবে আগামীতে কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।  

শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আলোকিত শৈশব গঠন করতে কি কি চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে, তা হলো- 

১. শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করা 

২. শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করা 

৩. ‘লার্নিং গ্যাপ’ কমিয়ে আনা 

৪. পাঠ্যবইয়ের বোঝা কমিয়ে আরো সৃজনশীল ও প্রকল্প ভিত্তিক শিক্ষার প্রস্তুতি 

৫. সহানুভূতিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা 

৬. অনুসন্ধানমূলক শৈশব নিশ্চিত করা 

৭. নিরাপদ শৈশব বা সাইবার ক্রাইম থেকে সুরক্ষা প্রদান করা 

৮. মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, পরীক্ষা নির্ভর না হয়ে মূল্যায়নের ধাপে সৃজনশীলতা আনা 

৯. অনলাইন এবং অফলাইন শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় করা 

১০. নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার করা

এই চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখেই ‘আলোকিত হৃদয়’ প্রতিষ্ঠানলগ্ন থেকে নিরাপদ ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যুগোপযোগী শিশুবান্ধব কার্যক্রম চালু রেখেছে। শিশুর জন্য সুন্দর সময় তৈরি করার জন্য এবং শিক্ষাকে আরো বেশি আনন্দনাদয়ক ও শিশু বান্ধব করার জন্য আলোকিত হৃদয়ের রয়েছে কিছু কার্যক্রম। করোনার সময়ে ঘরে বসে বসেও এই পদ্ধতি কাজে লাগানো যায়। 

কার্যক্রমগুলো হলো- 

১. খেলায় খেলায় শিখন পদ্ধতি

২. সমস্যা ভিত্তিক শিখন 

৩. সহমর্মিতামূলক শিখন 

একুশ শতকের দক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রস্তুত করতে বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো- 

খেলায় খেলায় শিখন পদ্ধতি 

এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষাকে আনন্দায়ক ও অংশগ্রহনমূলক করা যায়। এই পদ্ধতি ৪টি মূলনীতির উপর পরিচালনা করা হয়। চারটি মূলনীতি হলো- খেলার উদ্দেশ্য, যার মধ্যে পাঠের শিখন উদ্দেশ্য থাকবে। দ্বিতীয়টি হলো- খেলার নিয়ম, যেখানে খেলাটি কিভাবে পরিচালিত হবে তার বর্ণনা থাকে। তৃতীয়ত- মূলায়ন, যার মাধ্যমে খেলা শেষ হওয়ায় কারা জিতলো তার মূল্যায়ন করা। মূল্যায়নটি দুইভাবেই করা হয়। 

এক লিখিত মূল্যায়ন এবং খেলার মাধ্যমে মূল্যায়ন। চতুর্থ ও সর্বশেষ নীতিটি হলো- পুরস্কার, যার মাধ্যমে বিজয়ী দলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই পুরস্কার এমন কিছু দিতে হয়, যেন শিক্ষার্থীর মনে পুরস্কারের অনুপ্রেরণা থেকে যায় অনেক দিন পর্যন্ত। যেমন- খাবার জিনিস না দিয়ে শিক্ষক হাতের তৈরি কোনো জিনিস বানিয়ে দিতে পারেন।   

সমস্যাভিত্তিক শিখন 

পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আমাদের চারপাশের থাকা সমস্যাগুলোর সমাধানের করার শিক্ষণ পদ্ধতিই সমস্যা সমাধানভিত্তিক শিখন বলা হয়। এই শিখন পদ্ধতিতে প্রথমে পাঠের অংশটি ভালো করে পড়ানো হয়। তারপর পাঠের সঙ্গে সম্পর্কিত চারপাশের সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ তৈরি করা হয়। পরে যে সমস্যাটি শিক্ষার্থীর জন্য অথবা একটি দলের অল্প সময়ে সমাধান করা যায়, তা নির্বাচন করা হয়। সেই সমস্যাটি বাস্তায়ন করতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা শিক্ষার্থীদের ভাবতে দেওয়া হয়।  

ছয়টি ধাপে সম্পন্ন করা হয়। ধাপগুলো হলো- 

১. সমস্যা চিহ্নিতকরণ ২. সমস্যা নিয়ে অনুসন্ধান ৩. কল্পনা এবং সাফল্য কল্পনা ৪. কর্ম পরিকল্পনা ৫. প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন ৬. শেয়ার এবং প্রতিফলন 

সহমর্মিতামূলক শিখন

করোনার এই সময়ে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। অনেক দিন বিদ্যালয়ে না যেতে পেরে কত অভ্যাস কত স্মৃতি তারা ভুলেই যাচ্ছে। সেই সব স্মৃতি ও অভ্যাস নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহমর্মিতামূলক শিখন খুবই কার্যকরী। সহমর্মিতামূলক কিছু কার্যক্রম যেমন- ‘থ্রো ওয়ে স্ট্রেস’, ‘ইমোশন চার্ট’ এবং ‘কেস স্টাডি সলিউশন’সহ নানা কার্যক্রম থাকে। সহমর্মিতামূলক শিক্ষণের পাঁচটি আত্মসচেতনতা, স্ব-ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সচেতনতা, সম্পর্কের দক্ষতা এবং দায়িত্বের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপায়গুলো শিক্ষার্থীদের সহজে বোঝানোর কৌশল। শিশুর শৈশব ও শিক্ষাজীবন উপভোগ্য করতে নানা পরিকল্পনা ও যুগোপযোগী কোর্স আলোকিত হৃদয় তৈরি করে থাকে।

বিস্তারিত তথ্য পেতে আপনাকে লগ করতে হবে alokitoteachers.com ওয়েবসাইটটিতে। করোনা মহামারির এই সময়টাতেই সব চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে শিখন পদ্ধতিগুলো কাজে লাগাতে পারি। 

শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ার এই সময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলুন একসঙ্গে গড়ি ‘আলোকিত শিশু বান্ধব বাংলাদেশ’। 


লেখক: এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট অফিসার, আলোকিত হৃদয় ফাউন্ডেশন। 

Read Entire Article