শসায় কৃষকের হাসি

1 month ago 11

দেশের সর্ব উত্তরের কৃষিসমৃদ্ধ জেলা পঞ্চগড়। অনুকূল আবহাওয়ায় এখানকার মাটি সবজি চাষে বেশ উপযোগী। টমেটো, তরমুজ, গম, ভুট্টার মতো এ জেলায় উৎপাদন হয় শসা। 

চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ে ২৬৫ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। শসার ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় চাষিরা ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। গত বছর এমন সময় যে শসা ৫ টাকা দরেও বিক্রি হয়নি, সেই শসা এবার জমি থেকেই পাইকাররা নিচ্ছেন ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে। এতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

জানা গেছে, শসার বীজ রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরা শুরু হয়। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১০ হাজার টাকার মত। দাম ভালো থাকলে বিক্রি করা যাবে ৫০ হাজার টাকা।

সদর উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, মাচায় ঝুলছে সবুজ রংয়ের শসা। নজর কাড়ছে হলদে ফুল। এসবের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। কেউ ব্যস্ত পাইকারের কাছে শসা বিক্রি নিয়ে। ক্ষেতেই প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

কথা হয় হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফের সঙ্গে। তিনি এ বছর তিন একর জমিতে শসার আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে।

আব্দুর রউফ বলেন, ‘তিন একর জমিতে এক লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। দাম ভালো পেলে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা শসা বিক্রি করা যাবে।’

তেলিপাড়া গ্রামের কৃষক রাজু ইসলাম বলেন, ‘গেলো বছর করোনা সংকটে লকডাউন থাকায় ফলন ভালো হওয়ার পরও লোকসান গুণতে হয়েছে। বিক্রি না হওয়ায় ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে শসা। এ বছর শুরুতেই দাম ভালো পাচ্ছি। সংকট না হলে লাভবান হবো।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় শাক-সবজির আবাদ হয়েছে পাঁচ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শসার আবাদের পরিমাণ ২৬৫ হেক্টর।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদেক বলেন, ‘শসা চাষ বেশ লাভজনক ফসল। এবছর আবহাওয়া ভালো থাকায় বাজারে শসার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকেরা নানাভাবে সহায়তা পাচ্ছেন।’

Read Entire Article