লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ইউএনও’র দায়িত্বে অবহেলা, ডিসি’র গণবিজ্ঞপ্তি

3 weeks ago 15

লালমনিরহাটে জুয়েল হত্যা

নিহত আবু ইউনুস মো. সাহিদুন্নবী জুয়েল

নিহত আবু ইউনুস মো. সাহিদুন্নবী জুয়েল

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে আবু ইউনুস মো. সাহিদুন্নবী জুয়েল নামে সেই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় তৎকালীন ইউএনও’র বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার দুপুরে ডেইলি বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর। তিনি জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তে এ তদন্ত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিকেলে বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সাহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় তৎকালীন পাটগ্রামের ইউএনও কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বুড়িমারী ইউনিয়নের হলরুমে উপস্থিত থেকে তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। একইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করতে পাটগ্রামের বর্তমান ইউএনও, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বুড়িমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বরাবর অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর বিকেলে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে একজনকে সঙ্গে নিয়ে বুড়িমারীতে যান সাহিদুন্নবী জুয়েল। সেদিন বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজ শেষে কোরআন শরীফ নামাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত কয়েকটি কোরআন নিচে পড়ে যায়। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুমনকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পাটগ্রামের উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং ওসি ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় গ্রামে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন দরজা-জানালা ভেঙে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম-বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস কয়েক দফায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। ওই সময় বিক্ষুব্ধদের ছোড়া ইট-পাথরের আঘাতে পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন্ত কুমার মহন্তসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ১৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাটের ডিসি আবু জাফর এবং এসপি আবিদা সুলতানা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ওই ঘটনায় নিহত জুয়েলের চাচাতো ভাই সাইফুল আলম, পাটগ্রাম থানার এসআই শাহজাহান আলী ও বুড়িমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত হত্যাসহ পৃথক তিনটি মামলা করেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযান চালিয়ে এখন ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার কোনো সত্যতা পায়নি। গুজব ছড়িয়ে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন দুটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

নিহত আবু ইউনুস মো. সাহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের গ্রন্থাগারিক ছিলেন।

Read Entire Article