রাবনাবাদ চ্যানেল ড্রেজিংয়ে ব্যয় কমলো ৫৩ শতাংশ

2 weeks ago 16

পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) পরিবর্তে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিআর)-২০০৮ এর ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রকল্পটি পিপিপির পরিবর্তে পিপিআরের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৫৩ শতাংশ কমবে। এজন্য সরকার সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বিশেষ একটি তহবিল গঠন করেছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং’ সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। অল্প সময়ে বন্দরে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পায়রা বন্দরে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১০০-১২৫ মিটার প্রশস্ত ও ১০.৫ মিটার গভীরতার একটি চ্যানেল খননের পরিকল্পনা করা হয়।

সূত্র জানায়,পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য—বন্দরে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৩০ মিটার প্রস্থ ও ১০.৫ মিটার ড্রাফট বিশিষ্ট ৪০ হাজার ডিডব্লিউটি বহন ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজের যাতায়াত নিশ্চিত করা। পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) অনুমোদন নিয়ে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ (পাবক) ও বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি জান ডি নুলের (জেডিএন) ১০০ শতাংশ মালিকানাধীন পায়রা ড্রেজিং কোম্পানি লিমিটেডের (পিডিসিএল) মধ্যে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি ‘রাবনাবাদ চ্যানেল ক্যাপিটাল অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং’ শীর্ষক পিপিপি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের ব্যয় ধরা হয়েছিল (ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়া) ১ হাজার ৫৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ব্যয়িত অর্থ সুদসহ ১০ বছরে ২০ কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ছিল। এ অর্থ শুধু ড্রেজিংয়ের ইমপ্রুভমেন্ট প্রাইস এবং এ সংশ্লিষ্ট সুদ ও ইপিসি প্রিমিয়াম পরিশোধের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প কোম্পানি চুক্তিবহির্ভূত ও ব্যাংক ঋণ সংশ্লিষ্ট কিছু অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় পাবকের ওপর চাপিয়ে দেয়।

পাবক ও পিডিসিএলের মধ্যে সৃষ্ট এ মতানৈক্য নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন অনুযায়ী উল্লিখিত ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং প্রকল্পটি সিসিইএ’র অনুমোদন সাপেক্ষে পিপিপির পরিবর্তে পিপিআর অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে জেডিএনকে দিয়ে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এদিকে, সিসিইএ’র পরবর্তী সভার জন্য তৈরি প্রকল্পের সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেগুলো হলো—

(ক) জেডিএনের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি সংক্রান্ত নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

(খ) প্রকল্পের ক্রয় পদ্ধতি পরিবর্তন করে বেসরকারি অংশীদারের অর্থায়নের পরিবর্তে নিজস্ব অর্থায়নে পাবক কর্তৃক সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন, গৃহীত ঋণ প্রাথমিকভাবে অর্থ বিভাগ কর্তৃক পরিশোধ ও পরবর্তী সময়ে পাবক কর্তৃক অর্থ বিভাগকে নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়।

(গ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ধরনের অর্থায়ন ব্যবস্থায় পায়রা বন্দরের ক্যাপিটাল অ্যান্ড মেইনটেনেন্স ড্রেজিংয়ের জন্য জেডিএনের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় নেগোসিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়।

(ঘ) এর আগে পাবক ও জেডিএনের মধ্যে সম্পাদিত পিপিপি চুক্তিটি টার্মিনেট করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। এ বিষয়ে পিপিপি তালিকা থেকে প্রকল্পটি বাদ দিতে পিপিপি কর্তৃপক্ষের মতামত পাওয়া গেছে।

পরিবর্তিত কার্যপরিধির আওতায় প্রকল্পের মূল কাজ অর্থাৎ ড্রেজিং বাবদ সম্ভাব্য ব্যয় ৪৭৮.১৯ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ ৫ হাজার ৬৯২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা) নির্ধারণ করা হয়, যা পিপিপি চুক্তির ড্রেজিং ব্যয় অপেক্ষা ৫৪১.৮১ মিলিয়ন ইউরো বা ৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা (প্রায় ৫৩ শতাংশ) কম।

‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেনন্স ড্রেজিং’ শীর্ষক একক স্কিমটি ২০২১ সালের ১ মে থেকে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল মেয়াদে ৬ হাজার ৫৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য জিও জারি করা হয়েছে। ২০২১ সালের ৮ মার্চ প্রশাসনিক জিও জারি করা হয়। এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক, অর্থ বিভাগ এবং পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে গত ১৫ মার্চ ত্রিপক্ষীয় ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিপিপি‘র পরিবর্তে পিপিআরের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

View Source