মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে জবি শিক্ষক সমিতি

4 months ago 59

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতির মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেই সমিতির। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি এখনো রয়েছে সমিতির কার্যকরী সংসদের দায়িত্বে। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। আবারও বিভক্তি দেখা দিয়েছে শিক্ষক নেতাদের মধ্যে। যদিও শিক্ষক সমিতি কারণ দেখাচ্ছেন করোনাকালীন সরকারি নির্দেশনার। তবে শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের দাবি করোনার অজুহাতে মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি ক্ষমতা আকড়ে ধরে রেখেছে।

শিক্ষক সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের তিন প্যানেল। নির্বাচনে নীল দলের একাংশ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সর্বমোট ১৫টি পদের ১৪টি পদ পায়, বাকি ১টি পদ পায় নীল দলের অপরাংশ। তবে শিক্ষক সমিতির বর্তমান নেতৃবৃন্দের অংশের নীলদলটি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের বিশেষ আস্থাভাজন বলে পরিচিত ছিল।

এ দিকে নির্বাচনের বিষয়ে ক্যাম্পাস খোলার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানান শিক্ষক সমিতির বর্তমান নেতারা। তারা বলছেন, সম্প্রতি অনলাইনে এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমেই তারা ক্যাম্পাস খোলার পর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেহেতু সরকারি তেমন কোনো নির্দেশনা না থাকায় নির্বাচন করছেন না বলে জানান তারা।

যদিও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে শুধু ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে, তবে ক্যাম্পাসে বিভাগীয় ও দাপ্তরিক সব কাজ সচল থাকবে। সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দপ্তর ও বিভাগীয় কাজ অব্যাহত আছে। এছাড়াও করোনা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জাতীয় উৎসবেও অংশ নিচ্ছেন শিক্ষক সমিতির সদস্যরা। বিভিন্ন ইস্যুতে করছেন মানববন্ধনও।

বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের সভাপতি (সনাতন) অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, সাধারণত নিয়মানুযায়ী ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকে। যেহেতু করোনা সবকিছুর উর্ধ্বে, তাই বর্তমান কমিটি হয়তো অনলাইনে একটা মিটিং করে বৈধতা নিয়েছে কমিটির। তবে মোট ভোটারতো ৭০০, অনলাইন মিটিংয়ে সবাই উপস্থিত হতে পারেননি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজক্রম চলছে, শিক্ষক সমিতিও বিভিন্ন প্রোগ্রাম করছে, তাহলে নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায়? আর নির্বাচন তো শিক্ষকদের, সব শিক্ষকই প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসছেন। 

নীল দলের অপরাংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া বলেন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক সমিতি ভাববে, নীল দল তো ভাববে না। আর একটা সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর নির্বাচন হবে। আমরাও এ সিদ্ধান্ত সমর্থন করি। 

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর আলম আবদুল্লাহ বলেন, আমরা নভেম্বরে একটা সাধারণ সভা করেছি। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় খুলে না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটির মেয়াদ থাকবে।

নীল দলের একাংশের বক্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমরা মনে করি এখন নির্বাচন করলে সরকারের নির্দেশ অমান্য করা হবে।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। গত বছর ২৮ ডিসেম্বর হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, গত ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হয়েছে ১৫ মার্চ, ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন।

Read Entire Article