মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বাবার কোলে বসে থাকা শিশু নিহত

2 months ago 41

মিয়ানমারের মান্দালয় শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এবার প্রাণ হারিয়েছে সাত বছর বয়সী এক মেয়েশিশু। নিজের ঘরে বাবার কোলে নিরাপত্তা বাহিনীদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাওর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার মান্দালয়ের চান মিয়া থাজি এলাকায় খিন মিয়ো চিট নামের ওই শিশুটির বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল। সেসময় শিশুটি ঘরের ভেতরে বাবার কোলে বসে ছিল। তখন গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে শিশুর গায়ে লাগে।

মান্দালয়ের প্রাথমিক চিকিৎসাকর্মীরা জানান, খিন মিয়োকে চিকিৎসাসেবা দিতে উদ্ধারকর্মীদের একটি দল ছুটে যায়। কিন্তু তারা তাকে বাঁচাতে পারেনি।

শহরটির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া-সংক্রান্ত সেবা সংস্থার এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়েই শিশুটি মারা গেছে। নিহত খিন মিয়োর পরিবার জানায়, তার ১৯ বছরের ভাইকে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।

খিন মিয়োকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সেনাবাহিনী। মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত যত মানুষ নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে খিন মিয়ো সর্বকনিষ্ঠ।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সেইভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ামারের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ জনের বেশি শিশু।

খিন মিয়োর মৃত্যুর বিষয়ে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলে, সাত বছরের শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। খিন মিয়োর মৃত্যুর আগের দিনই একই শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৪ বছরের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মিয়ানমারে শিশুদের মৃত্যু উদ্বেগজনক। নিজেদের ঘরে তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেখানেও সহিংসতা থেকে তাদের রেহাই দেয়া হচ্ছে না। দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই শিশুমৃত্যুর ঘটনা এ বার্তাই দেয় যে, মানুষের জীবনের মূল্যকে পুরোপুরি পদদলিত করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই দিনই অং সান সু চিসহ নির্বাচিত অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক বছরের জন্য জারি হয় জরুরি অবস্থা। এরপর থেকেই সামরিক শাসনের পতন ও নির্বাচিত নেতাদের মুক্তির দাবিতে টানা আন্দোলন করে আসছে মিয়ানমারের মুক্তিকামী মানুষ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলন দমাতে চরম সহিংস অবস্থান নেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

দেশটির আন্দোলন-সংগ্রামে এখন পর্যন্ত ১৬৪ ব্যক্তি নিহত হওয়ার দাবি করেছে সেনাবাহিনী। অবশ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, মিয়ামারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২৬১ জন। এদিকে মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তবে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য তাদের দায়ীও করে জান্তা সরকার।

Read Entire Article