ভুল দল  নির্বাচন ও লেগ স্পিনে ধস! 

1 month ago 10

নিউ জিল্যান্ডে দলের নতুন বিস্ময় ডেভন কনওয়ে ( ৫২ বলে অপরাজিত ৯২) এবং নবাগত উইল ইয়ং ( ৩০ বলে ৫৩)  দুর্দান্ত জুটিতে ১০ ওভারে ১০৮ রান করে ম্যাচে দলকে নিরাপদ স্থানে পৌছে দেন। টি- টুয়েন্টিতে দুশোর বেশি রান মানেই জয়ের অর্ধেক কাজ সেরে ফেলা। টসে জিতে মারমুখি ব্যাটিংয়ে সেই কাজটাই সম্পন্ন করে রাখল নিউ জিল্যান্ড। আর বোলিংয়ের অর্ধেক পথেই বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দিয়ে ম্যাচ জয়ের বাকি কাজটাও পুুরো করে নিল।

লেগ স্পিন খেলায় অনভ্যস্ত বাংলাদেশ ইশ সোধির ( ৪/২৮) গুগলির কাছেই যেন হার মানল! নিউ জিল্যান্ডের ২১০ রানের জবাবে বাংলাদেশের যোগাড় ১৪৪। ৬৬ রানের বিশাল এই হারই জানান দিচ্ছে সিরিজের প্রথম টি- টোয়েন্টি হয়েছে পুরোপুরি একতরফা ম্যাচ।  ব্যাটিংয়ের কোন সময়ে মনে হয়নি বাংলাদেশ এই ম্যাচ জয়ের ধারে কাছেও আছে। ক্রিকেটের ভাষায় এমন হারকে বলা হয় অসহায় আত্মসমর্পণ!

হ্যামিল্টনের উইকেটে পেস, বাউন্স সব আছে. টম মাঠটি ছোট , আউটফিল্ড ফাস্ট। আকাশে মেঘ ছিল।  তাসকিন , রুবেল এই উইকেটে নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ভাল পরীক্ষা নিতে পারতো বাংলাদেশ। অথচ আমরা  নিজেদের দুই সেরা বোলারকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে একাদশ সাজালাম। ওয়ানডে সিরিজে বার্থ লিটন দাস, সৌম্য সরকার দলে থাকায় মনে হতেই পারে বাংলাদেশ ওডিআই লজ্জা থেকেই শিক্ষা নিলো না। কাঁধের চোটে মুশফিক এই ম্যাচের বাইরে থাকলেন।

ছোট মাঠ অফস্পিন কাজে লাগবে না জেনেও শেখ মাহাদি হাসানকে রাখা হলো দলে। মেহেদি মিরাজ একাদশে থাকলে ওর ব্যাটিং কাজে লাগতো। নাসুম , আফিফ , শরিফুলের দল ভুক্তি সাহসী বলতে হবে। নাসুম শুরুতে দুটো উইকেট নিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলো। পেতে পারতো কনওয়ের উইকেটও। নিউ জিল্যান্ডের শক্তিশালী মিডল অর্ডারের ব্যাটিংই এই ম্যাচের হিসেব স্থির করে দিল। তবুও আশা ছিল বাংলাদেশ অন্তত ভালো ব্যাটিং করে সম্মানজনক একটা স্কোর করবে।  

কিন্তু নড়বড়ে লিটন , সৌম্য যথারীতি পত্র পাঠ বিদায় এবং মিডল অর্ডার সোধির লেগস্পিনের ভেল্কিতে কুপোকাত হয়ে গেল। ওপেনিংয়ে নাঈম (২৭) এবং শেষ দিকে আফিফ ( ৪৫) এবং সাইফুদ্দিন অপরাজিত (৩৪ ) করায় ব্যাটিংয়ে কিছুটা মুখ রক্ষা হল। বাংলাদেশ বাড়তি বাউন্সের উইকেটে খেলতে পারে না।  লেগ স্পিন খেলতে পারে না। তাহলে খেলবে কোথায়? সিমেন্টের পিচে?  

লেখক: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ক্রিকেট লেখক

Read Entire Article