ভিনদেশি ফুল রঙ ছড়াচ্ছে জাহাঙ্গীরনগরে

1 month ago 23

কলা ভবনের পাশে শ্বেতশুভ্র ও মন মাতানো ফুল নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ক্যাসিয়া রেনিজেরা।

কলা ভবনের পাশে শ্বেতশুভ্র ও মন মাতানো ফুল নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ক্যাসিয়া রেনিজেরা।

প্রকৃতির কোলজুড়ে বসন্তের রাজত্ব। বসন্তকে রাঙাতে এবারো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের পাশে শ্বেতশুভ্র ও মন মাতানো ফুল নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ক্যাসিয়া রেনিজেরা।

অপরূপ এই জাপানি ফুল জাহাঙ্গীরনগরের প্রকৃতিকে করে তুলেছে অপরূপ। অনিন্দ্যসুন্দর এই ফুল বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টির সৌন্দর্যের মাত্রায় নতুন পালক যোগ করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নতুন কলাভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ক্যাসিয়া রেনিজেরা ফুল ফুটেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শহীদ মিনারের সড়কের পাশে জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনের অংশে আরেকটি ক্যাসিয়া রেনিজেরা গাছ রয়েছে। সেখানেও ফুটেছে জাপানি এ ফুল।

চলতে-ফিরতে ক্যাসিয়া রেনিজেরা পথচারী ও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। ছবি তোলার পাশাপাশি তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেকেই।

শ্বেতশুভ্র ভিনদেশি ক্যাসিয়া রেনিজেরার আদি নিবাস জাপান। এর স্নিগ্ধ রূপ ও রঙের বৈচিত্র্য থেকে চোখ সরিয়ে নেয়া সহজ নয়। ফুলটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘বার্মিজ পিংক ক্যাসিয়া’। মধ্যম আকারের এ বৃক্ষের উচ্চতা সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিটার। চিকন ডালগুলো ঝুলে থাকে। রোপণের চার-পাঁচ বছরের মধ্যে বৃক্ষে নয়নাভিরাম শ্বেতশুভ্র গোলাপি ফুল আসে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দণ্ডায়মান বৃক্ষটির সামনে ঝোলানো নামফলক সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে অধ্যাপক ড. এ আর খান বীজ সংগ্রহ করে চারা উত্তোলন করে ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্পটে জাপানি এ ফুলের চারা রোপণ করেছিলেন।

ক্যাসিয়া রেনিজেরা আমাদের কাছে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। বর্ষা ছাড়া মোটামুটি বছরের বেশির ভাগ সময়ই বৃক্ষটি পত্রহীন অবস্থায় থাকে। আর পত্রহীন এ বৃক্ষটিতে ফেব্রুয়ারির শেষদিক থেকে শুরু করে এপ্রিল, মে মাস পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ফুলের দেখা মেলে। এরপর ক্রমে নতুন পাতা গজায় আর গোলাপি ফুলগুলো সাদা হতে থাকে।

দৃষ্টিনন্দন ক্যাসিয়া প্রজাপতির ৪০ প্রকার গুল্ম ও বৃক্ষজাত রয়েছে। এর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশে মিলিয়ে ১৫টি প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়।

বসন্তের শেষ ভাগে গাছটিতে দেখা মেলে মঞ্জুরির। এ বৃক্ষের ফুল থেকে যে বীজ হয়, তা অনেকটা শিম আকৃতির প্রায় কালো রঙের লম্বা দণ্ডের ফল। ক্যাসিয়া রেনিজেরা বাংলাদেশে খুব স্বল্প পরিচিত এবং অদ্ভুত সুন্দর ফুল হিসেবে বেশ পরিচিত। রাজধানীর অল্প কিছু স্থানে এ ফুলের দেখা মেলে।

প্রতিবছরই এ সময়টাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরাসহ দর্শনার্থীরা এর সৌন্দর্য অবলোকনে ভিড় জমাতো। তবে এবার করোনাভাইরাসের কারণে ক্যাম্পাসে প্রবেশাধীকার সীমিত থাকায় সেটি তুলনামূলক কম। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ক্যাসিয়ার সৌন্দর্য অবলোকনের সুযোগ হাতছাড়া করছেন না।

Read Entire Article