ভিক্ষুকের টাকা নিয়ে প্রতারণা, ওসির হস্তক্ষেপে উদ্ধার

1 month ago 29

বরগুনার তালতলীর দক্ষিণ সওদাগর পাড়া এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মন্টু মিয়া (৫০)। জন্মের সময় থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। পরিবার পরিজনও এভাবেই চলছে।

গত ১০ বছর ধরে তিলে তিলে এক লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। ব্যবসায় প্রয়োগ করে লাভের আশায় সেই টাকা একই এলাকার আব্দুর রব গাজীর (৫২) মাধ্যমে নূর জামাল মুন্সিকে দেন তিনি। কিন্তু লাভ তো দূরে থাক, আসল টাকাই ফেরত পাচ্ছিলেন না মন্টু।

টাকা ফেরত পেতে গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন জনের কাছে ধর্না দিয়েছেন তিনি। আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাননি। ভিক্ষুকের কাছে লাখ টাকা আসবে কী করে? অনেকেই তাই তার কথা বিশ্বাসও করেনি। অবশেষে শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি অভিযোগ দেন তালতলী থানায়।

অভিযোগ পেয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া নূর জামাল মুন্সির কাছ থেকে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করেন। পরে মন্টু মিয়াকে থানায় ডেকে তার টাকা ফেরত দেন।

গতকাল রোববার (২৮ মার্চ) বিকেলে আদায় করা এক লাখ টাকা ভিক্ষুক মন্টু মিয়ার হাতে তুলে দেন ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া।

মন্টু মিয়া বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই কষ্টের জীবন আমার। ভিক্ষা করে সামান‌্য যা রোজগার হয়, তা দিয়ে কোনোরকমে পরিবার নিয়ে টিকে রয়েছি। ব‌্যবসার নাম করে নূর জামাল মুন্সি এলাকার অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই প্রতারণার শিকার হয়েছি আমি নিজেও। উপায় না পেয়ে থানায় অভিযোগ দিই। দেড় বছর ধরে যা হয়নি- মাত্র দুই দিনের মাথায় আমার টাকা আদায় করে দিয়েছেন ওসি সাহেব। তার কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আমার।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে ১০ বছর ধরে টাকাগুলো জমিয়েছিলাম। ব‌্যবসায় খাটালে কিছু টাকা বাড়বে। ইচ্ছে ছিল তা দিয়ে চিকিৎসা করাব। তা তো হলোই না। বরং টাকাটাই হারাতে বসেছিলাম। ওসি সাহেবের দয়ায় আবার টাকা ফেরত পেয়েছি।’

ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী মন্টু মিয়া টাকার বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। দুই দিনের মধ‌্যে অভিযুক্ত ব‌্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। পরে মন্টু মিয়াকে থানায় ডেকে তার হাতে আদায় করা টাকা তুলে দেওয়া হয়। তবে টাকা ফেরত দেওয়ায় নূর জামাল মুন্সিকে সাবধান করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

Read Entire Article