বোরো’র বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

1 month ago 25

চলতি মৌসুমে মাঠজুড়ে বোরো ফসলের ক্ষেত সবুজে ভরে উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় সুশোভিত বোরোর ক্ষেত দেখে মনে হবে এ যেন আবহমান বাংলার চিরাচরিত রূপ। চোখ জুড়ানো দিগন্ত  বিস্তৃত ফসলের মাঠে সবুজের সমারোহ হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। মাঠে মাঠে দোলা খাচ্ছে চলতি মৌসুমের বোরো ধান। কৃষকদের মনে দোলা দিচ্ছে অনাবিল আনন্দ।

স্থানীয় কৃষকরা প্রথম দফার ধানের নিড়ানির কাজ শেষ করেছেন। বর্তমানে মাঠজুড়ে চলছে দ্বিতীয় দফার নিড়ানি, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কাজ। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পানি সুবিধা ভালো থাকায় শঙ্কামুক্ত রয়েছেন কৃষকরা। তারা মাঠের ধানকে ঘিরে স্বপ্নের জাল বুনছেন। 

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা জমির পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সরেজমিনে পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, খড়মপুর, দুর্গাপুরসহ উপজেলার মোগড়া, মনিয়ন্দ, ধরখার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠে মাঠে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বোরো ক্ষেত সবুজে ঢেকে আছে। যেদিকে চোখ যায় মাঠে শুধু ধানক্ষেত চোখে পড়ে। এরমধ্যে কোনো কোনো জমিতে ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। সঠিক সময়ে চারা রোপণ, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ ও সার দেয়া সবই করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেইসঙ্গে ফলন ভালো করতে নিয়মিত কৃষি কর্মকর্তারা তদারকিও করছেন। রোগ বালাইয়ের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের ধান জমিতে গাছের ডাল পুঁতে পাখি দিয়ে পোকা-মাকড় দমনে তারা উৎসাহিত করছেন। এ উপজেলায় বি-আর ২৮, বি-আর ২৯, হীরা, হাইব্রিড সবুজ সাথী, এসএলএইডএইচ, জাগরণীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধান চাষ করা হচ্ছে। 

এদিকে কৃষি অফিস বলছে, তারা রোগবালাই ও পোকামাকড় হতে ফসল রক্ষায় মাঠে মাঠে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

পৌর এলাকার তারাগণের কৃষক মো. আলম খা জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর প্রায় ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করছেন তিনি। সব জমির ফসলের পরিচর্যার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। এখন পর্যন্ত তেমন বড় ধরনের রোগবালাই দেখা যায়নি। ফসলের জমির অবস্থা ভালো এ জন্য ভালো ফলনে আশাবাদী তিনি।

মোগড়া ইউনিয়নের কৃষক এমরান আলী জানায়, গত মৌসুমের ক্ষতি পোষাতে ধারদেনা করে ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে জমির অবস্থা খুবই ভালো। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে বাম্পার ফলনের আশা করেন তিনি।

কৃষক আবুল হোসেন বলেন, দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করছি। আর কয়েকদিন পর ধানের শীষ বের হবে। জমির দিকে তাকালে মন জুড়িয়ে যায়।

উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, এ উপজেলার প্রায় সব মাঠেই বোরো ধানের চাষ হয়ে থাকে। অনুকূল আবহাওয়া, প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ, চাহিদানুযায়ী কৃষি উপকরণ সরবরাহের কারণে অধিক আগ্রহের সঙ্গে কৃষকরা বোরো চাষ করেছেন।

এছাড়া ফলন ভালো রাখতে প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হতে পারে।

Read Entire Article