‘বৈধ সরকারকে উৎখাত করতে শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র’

4 months ago 54

২০০০ সালে জুলাই মাসে হুজির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে তৎকালীন বৈধ সরকারকে উৎখাত করার জন্য শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে আসামিরা।

প্রায় ২১ বছর আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ১৪ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। রায় ঘোষণার আগে পর্যবেক্ষণে এ কথা বলেন তিনি।

বিচারক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারকে হত্যার মাধ্যমে তারা দেশকে ধ্বংস করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসলে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্নভাবে তাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টায় লিপ্ত হয়।

এ মামলার প্রধান আসামি ছিলেন মুফতি আব্দুল হান্নান।  তবে তার অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এজন্য তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মুফতি হান্নানের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি তুলে ধরে বিচারক বলেন, ২০০০ সালে জুলাই মাসে হুজির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বৈধ সরকারকে উৎখাত করার জন্য শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র নেয় তারা। ওই বছরের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশ স্থল ও হেলিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের শক্তিশালী দুটি বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল।  সমাবেশের আগে চায়ের দোকানে বদিউজ্জামানের কর্তৃক বোমা পুলিশ উদ্ধার করে।  বারবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে হুজি।  যার প্রথম ঘটনা কোটালীপাড়ায় ২০০০ সালের ২০ জুলাই। দ্বিতীয় ঘটনা খুলনায় পরের বছর  ৩০ মে, ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে তৃতীয় ঘটনা এবং চতুর্থ ঘটনা ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট।  এই কারণে হুজি ও জেএমবিসহ ইসলামী জঙ্গিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার  মাধ্যমে উল্লেখিত নৃশংস ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে ট্রাইব্যুনাল মনে করে।  রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত করতে পারায় সর্বোচ্চ সাজা  মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। একটি ফায়ারিং স্কোয়ার্ডে প্রকাশ্যে তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস, সরোয়ার হোসেন মিয়া, মফিজুর রহমান ওরফে মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজ, মাহমুদ আজাহার ওরফে মামুনুর রশিদ ওরফে মাহমুদ, রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমুল খান ওরফে রাশেদ খাঁ, তারেক হোসেন ওরফে তারেক ওরফে মারফত আলী, আ. ওয়াদুদ শেখ ওরফে গাজী খান ওরফে হাসান ওরফে মেহেদী হাসান, মাওলানা আমিরুল ইসলাম ওরফে জেন্নাত মুন্সি ওরফে দেনত আলী মুন্সি, মাওলানা রফিকুল, মো. আজিজুল হক ওরফে শাহনেওয়াজ, মো. লোকমান, মো. ইউসুফ ওরফে মোছহাব মোড়ল ওরফে আবু মোছা হারুন, মোছাহেব হাসান ওরফে রাশু এবং শেখ মো. এনামুল হক।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ৯ জন কারাগারে আছেন। শেষের ৫ জন পলাতক রয়েছেন।

Read Entire Article