বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা এক বৃন্তে দুই ফুল

1 month ago 15

স্বাধীনতা বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের জায়গা করে নেওয়ার সুবর্ণজয়ন্তী আজ। প্রতি বছরই নানা আয়োজনে বাঙালি উদযাপন করে স্বাধীনতা দিবস। এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অবনতচিত্তে স্মরণ করে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের।

দিনটি উদযাপনের বিশেষ তাৎপর্য হলো, স্বদেশপ্রেমে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা। স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনার এই সময় জাতি নিবিড় আবেগের সঙ্গে স্মরণ করে। জাতির সৌভাগ্য, এবারের স্বাধীনতা দিবস এসেছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরেই স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হচ্ছে। তাই এ বছরের স্বাধীনতা দিবস আরও বেশি তাৎপর্যময়।

স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু একই বৃন্তে দুই ফুল। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে মরণপণ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জাতি। অত্যাচার-নিপীড়নে জর্জরিত বাঙালি জাতির সামনে আলোকময় ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ইতিহাস ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং ২ লাখ মা-বোনের ত্যাগের ইতিহাস। স্বাধীনতা মানে কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের গৌরবগাঁথা। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ইতিহাসের পৃষ্ঠা রক্তে রাঙিয়ে, আত্মত্যাগের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে একাত্তরের মার্চের এই দিন। গৌরব ও স্বজন হারানোর বেদনার এই দিনে বীর বাঙালি সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা করে। শুরু হয় সর্বাত্মক এক জনযুদ্ধ। ২৬৬টি মহার্ঘ্য দিনের সেই জনযুদ্ধের সফল পরিণতিতে বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় নতুন এক রাষ্ট্র। আমরা পাই, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে উপমহাদেশের জনগণ পায় পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি ভূখণ্ড রাষ্ট্র। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বাঙালিদের নতুন করে শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখার ষড়যন্ত্র। খুব বেশিদিনের ইতিহাস নয়। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলার মানুষের ভোটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার আড়ালে সময় ক্ষেপণ করে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে তারা। ২৫ শে মার্চ সন্ধ্যা রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ইয়াহিয়া খান সমস্যা সমাধানের জন্য সামরিক ব্যবস্থা বেছে নেন আর এখানেই পাকিস্তানের সমাপ্তি হলো।’

বঙ্গবন্ধু যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ‘একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্য রাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ভবন) থেকে বঙ্গবন্ধু ইপিআর-এর ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ডাক দেন। বলেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণ তোমরা যে যেখানেই আছো এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈনিকটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’

একইসঙ্গে তিনি বার্তা পাঠান। সেটি হলো: ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ, দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোনো আপস নেই, জয় আমাদের হবেই। আমাদের পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রু বিতাড়িত করুন। সব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমীক ও স্বাধীনতাপ্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আমাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।’ ( সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড। তথ্য মন্ত্রণালয়, ১৯৮২ সাল)। উল্লেখ্য, ঘোষণাটি তৎকালীন ইপিআর-এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭ মার্চ বেশ কয়েকজন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের জন্য পুনঃপাঠ করেন।

এমন এক প্রেক্ষাপটে ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে দেয়। রাত সোয়া একটার দিকে ট্যাঙ্ক সাজোয়া গাড়ি ও এক লরি সৈন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। তারা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তখন বঙ্গবন্ধু বীর বাঙালির মতোই দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়ান। রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে বাড়ির টেলিফোনের লাইন কেটে দেওয়া হয়। আর বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে চিরতরে নিভিয়ে দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় হায়েনার দল। বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্ণনা মতে: ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়েছিল এ বাড়িটি। রাত ১২:৩০ মিনিটে আব্বা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিলেন। আর সেই খবর ওয়ারলেসের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পৌঁছে দেওয়া হলো পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী। সেই খবর পাবার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতারা তা প্রচার শুরু করেন। যে মুহূর্তে এই খবর পাকিস্তানি সেনাদের হাতে পৌঁছল, তারা আক্রমণ করলো এই বাড়িটিকে। রাত ১:৩০  মিনিটে এসে আব্বাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেল। আজও মনে পড়ে সেই স্মৃতি। লাইব্রেরি ঘরের দক্ষিণের যে দরজা, তারই পাশে টেলিফোন সেট ছিল। ঐ জায়গায় দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বার নির্দেশ দিয়েছিলেন।’ (স্মৃতি বড় মধুর, স্মৃতি বড় বেদনার: লেখক শেখ হাসিনা)

কে না জানে, এর আগে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেন। সেই থেকে শুরু। পাকিস্তানিদের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সব রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সচেতন নাগরিককে নির্মূল করা। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সর্বস্তরের জনগণ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বাধীনতার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ে দীপ্ত বাঙালির সামনে তখন কোনো মারণাস্ত্রই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বাঙালি হয়ে ওঠে সংগ্রাম-আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারীদের প্রতীক। এরপর ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের এই ধারাবাহিক সংগ্রামে জীবনের ৪ হাজার ৬৮২ দিন জেলে কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দু’বার ফাঁসিকাষ্ঠের মুখোমুখি হয়েছেন। অসংখ্য মিথ্যা মামলায় অসংখ্যবার কারাবরণ করার পরও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোস করেননি তিনি। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় পাকিস্তানের জেলে তিনি বন্দি ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বীর বেশে দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। শুরু করেন যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর হাতে সময় পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করা, শহীদ পরিবার, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোনদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, তাদের প্রতিষ্ঠিত করা- সব কাজই তিনি করেছিলেন এই সাড়ে তিন বছরে। জাতির পিতা বলতেন ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়।’

বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে দিয়েছেন একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, জাতির গর্বিত পরিচয়। স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু তাই একই বৃন্তে দুই ফুল। বাংলার প্রজন্মের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন বঙ্গবন্ধু। আজ তিনি বেঁচে থাকলে আমরা একটি সুখী, সুন্দর সোনার বাংলা অনেক আগেই অর্জন করতে পারতাম। স্বাধীনতার পরপরই সরকার গঠন করে তিনি একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশকে যেভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটাই তার প্রমাণ বহন করে। স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি এবং তাদের দোসররা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সেই পথ রুদ্ধ করে দেয়। অথচ বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তাঁর নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ ২০৪১ সালে উন্নত দেশের পথ খুঁজে পাবে আমাদের গৌরবের বাংলাদেশ।

প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস আমাদের মনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা জোগায়। তরুণ প্রজন্মের উচিত লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। যারা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস বিকৃত করে পরবর্তী প্রজন্মকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে সচেষ্ট, তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, দোসর ও তাদের নব প্রজন্মের আস্ফালন রুখে দিতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, পশ্চাৎমুখী যে কোনো কর্মকাণ্ড রুখে দিতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কাজে এই অঙ্গীকারে কোনো দোদুল্যমানতা কাম্য নয়। 

লেখক: বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

Read Entire Article