ফুডকার্ট থেকে রেস্টুরেন্টের মালিক রাবি শিক্ষার্থী বাপ্পা

4 months ago 63

সেই ফুডকার্ট থেকে হয়েছেন রেস্টুরেন্ট মালিক

সেই ফুডকার্ট থেকে হয়েছেন রেস্টুরেন্ট মালিক

শুরুতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছোট একটি ফুডকার্টে বার্গার, স্যান্ডউইস বিক্রি করতেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ফুডকার্ট থেকে হয়েছেন রেস্টুরেন্ট মালিক। জীবনে নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে ছুঁয়েছেন সাফল্যের আকাশ। ছাত্রজীবনেই হয়েছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় একজন সফল উদ্যোক্তা। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনু মোহন বাপ্পা’র কথা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী বাপ্পা। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। রাজশাহী নগরীর পাঠানপাড়া মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন (কেন্দ্রীয় ঈদগাহ) গড়ে তুলেছেন ‘রেইনবো অ্যান্ড টি টাইম’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট। যেখানে পাওয়া যায় বার্গার, স্যান্ডউইস, চিকেন ফ্রাই, নুডুলস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড। এছাড়াও বিভিন্ন জুস আইটেম আর নানান স্বাদের চা।

বাপ্পা শুনাচ্ছিলেন তার সফলতার গল্প। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবর্ষে ভর্তি হওয়ার পর নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশনি করতাম। হঠাৎ করে দিদির বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু টিউশনি থেকে ছুটি দিবে না। রাগ করে টিউশনি ছাড়ি। পরে চিন্তা করলাম এমন কিছু করবো সেখানে নিজের স্বাধীনতা থাকবে। সিদ্ধান্ত নিলাম ব্যবসা করবো। নিজের জমানো কিছু টাকা দিয়ে ‘সাত রং ফ্যাশন’ নামের ছোট একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। শুরু করি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইনে টিশার্টের ব্যবসা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অ্যালামনাই, বর্ষপূতিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে টিশার্ট সরবরাহ করতাম। যখন শিক্ষকরা শুনতো আমি চারুকলায় পড়ি তখন তারা আমাকে কাজগুলো দিতো। এখান থেকেই মূলত শুরুটা হয়েছিল।

সময়টা ২০১৮ সালের শেষের দিক। পরিচিত একজন রাজশাহী শহরে ফুডকার্টে ফাস্টফুড বিক্রি করতেন। কোন কারণে তার ফুডকার্টের ভ্যানটা বিক্রি করবে। তখন ভাবলাম বিকেলে তো আমার কোনো কাজ থাকে না বসেই থাকি। সময়টা কাজে লাগানো যেতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই ফুডকার্টটা কিনে নিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম খালেদা জিয়া হলের পাশে (পশ্চিমপাড়া) ‘রেইনবো ফুডিস’ নামে ফুডকার্টে খাবার বিক্রি শুরু করলাম।

তিনি আরো বলেন, সাতরং ফ্যাশন, ফুডিস দুইটাই খুব ভালো চলছিল। বেশ আয়ও হচ্ছিলো। আমার আগে থেকেই স্বপ্ন ছিলো রেস্টুরেন্ট দিবো। পরে সেদিকে মনোযোগ দিলাম। স্বপ্নকে সত্যিই করা জন্য জমানো টাকা দিয়ে রাজশাহী শহরে একটা দোকান নিলাম। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু করলাম দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের রেস্টুরেন্ট। এরকিছু দিনপর করোনাভাইরাসের কারণে পুরো শহর লকডাউন। রেস্টুরেন্টের ভাড়া, সিকিউরিটি, আনুষাঙ্গিক খরচসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মতো লোকসান হলো। তখন আমি প্রায় নি:স্ব হয়ে গিয়েছিলাম। বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিতে হয়েছে রেস্টুরেন্ট।

যখন একেবারে প্রায় নি:স্ব বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিওতে ঘুরেছি লোনের জন্য। কেউ আমাকে কোন টাকা দেয়নি। পরে আমের মৌসুমে ফরমালিনমুক্ত আমের ব্যবসা শুরু করলাম। সেই সঙ্গে টিশার্টের বেশ কয়েকটি অর্ডার পেলাম। এইসব ব্যবসার লভ্যাংশ থেকে জমানো টাকা আর বন্ধুদের থেকে ধার নিয়ে আবারও শহরে একটি দোকান নিলাম। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আবারও দাড় করালাম ‘রেইনবো ফুডিস অ্যান্ড টি টাইম’। রেস্টুরেন্টের সিকিউরিটি, ডেকোরেশন, আনুষাঙ্গিক খরচসহ দুই লাখ টাকার মতো খরচ হয়। বর্তমানে রেস্টুরেন্ট খুব ভালো চলছে। আশা করছি স্কুল, কলেজ খুলা হলে বিক্রি আরও বাড়বে।

এতকিছু থাকতে উদ্যোক্তা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাপ্পা বলেন, চাইলে তো চাকরি করতেই পারতাম। চাকরি করলে তো কারো অধীনে কাজ করতে হবে। আমার কারো অধীনে থাকতে ভালো লাগে না। আমার ইচ্ছে ছিলো এমন কিছু করবো যাতে আমি অন্যকে চাকরি দিতে পারি। বর্তমানে আমার রেস্টুরেন্টে তিনজন নিয়মিত কাজ করছে। আমি তিনজন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছি। আমার এখানে যারা কাজ করে তারাও আমার মতো শিক্ষার্থী।

রেস্টুরেন্ট নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, রেস্টুরেন্ট নিয়ে আপাদত আমার স্বপ্ন এটাতে আরও বড় করা। আরও একটি বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। আমি যেহেতু চারুকলায় পড়ি সেটা নিয়ে কাজ করা দরকার। রাজশাহীতে ভালো কোন আর্ট গ্যালারি নাই। আমার ইচ্ছে রেস্টুরেন্টে একটা আর্ট গ্যালারি করার। 

Read Entire Article