প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন কামনা প্রধানমন্ত্রীর

1 month ago 28

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পিআইডি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনায় ইতোপূর্বে উপনীত প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন কামনা করেছেন। ‘সীমান্ত ঘটনা’ শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘৯ বছর আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত এ চুক্তি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, প্রস্তাবিত এই চুক্তি বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। কারণ পানিস্বল্পতার কারণে তিস্তা তীরবর্তী মানুষকে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’ 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময় এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সীমান্ত ঘটনা শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিষয়টি যথাযথভাবে দেখভাল করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। 

ইহসানুল করিম জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সকল অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের যুক্তিসঙ্গত সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

মোদি আরো জানান, সীমান্ত ঘটনার ব্যাপারে গ্রাউন্ড লেবেল পর্যায়ে সহযোগিতা এর প্রতিরোধে সহায়ক হবে। 

আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ নয়াদিল্লির সক্রিয় ভূমিকা আশা করে। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থায়ী প্রত্যাবাসন চায়। 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সাফল্যজনকভাবে টিকা প্রদান অভিযান শুরুর জন্য নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান। তিনি ‘প্রতিবেশি প্রথম’ নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ এতদঞ্চলের অন্যান্য দেশে টিকা সরবরাহের জন্য নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেন। ১২ লাখ ডোজ কোভিড-১৯ টিকা উপহার হিসেবে দেয়ার জন্যও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী সেতু চালু হওয়ায় যোগাযোগ খাতে সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা পোর্ট ব্যবহার করতে পারবে। 

নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশকে সংযুক্তকরণে কয়েকটি রুটের কথা উল্লেখ করে পরস্পরের সম্ভাবনার স্বার্থে ভারত তা বিবেচনা করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে মোটরযান চলাচল চুক্তি হলে তিন দেশই লাভবান হবে। 

শেখ হাসিনা ‘মুজিবনগর-নদীয়া রোড’ স্বাধীনতা সড়ক হিসেবে নামকরণে বাংলাদেশের প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। 

নরেন্দ্র মোদি বলেন, দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’  প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নেরও প্রসংশা করেন। 

আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসউদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমা ধোবাল এবং বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। 

Read Entire Article