পাটাতন পচে সাঁকো এখন মরণ ফাঁদ

1 month ago 35

ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছেন এলাকাবাসী

ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছেন এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি কাঠের সাঁকো স্থানীয় এলাকাবাসীর মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাঁকোর পাটাতনের কাঠ পুরাতন হয়ে পচে যাওয়ায় কোথাও কোথাও বাঁশদিয়ে জোড়াতালি লাগানো হয়েছে।

একসঙ্গে তিন থেকে চারজন লোক পারাপারের জন্য উঠলেই খুঁটিসহ পুরো সাঁকো নড়ে উঠে। ৮০ মিটার দীর্ঘ এই কাঠের সাঁকোর দুই পাশের রেলিংয়ের অধিকাংশ কাঠ পচে পেরেক বের হয়ে আছে। সাঁকোর এমন অবস্থার কারণে স্থানীয়রা একে মরণ ফাঁদ নাম দিয়েছে।

আর ফুলকী এবং কাউলজানী ইউনিয়নের মাঝদিয়ে প্রবাহিত লাঙ্গুলিয়া নদীর উপর নির্মিত এই মরণ ফাঁদ দিয়েই দুই ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী কালিহাতি উপজেলার কয়েক গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত।ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোতে পারাপার

বাসাইল উপজেলার দুটি ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার রামপুর, বল্লা, কাজীবাড়ি, পাইকরা, ধানগিরা, কাউলা,রানাগাছা,দোহারসহ বেশকিছু গ্রামের লোকজনের বাসাইল উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি।

এই এলাকায় ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি দাখিল মাদরাসা,৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি ব্যাংকের শাখা এবং আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের হাজারো লোকজন প্রতিদিন এই কাঠের সাঁকোতে যাতায়াত করে।

২০১২ সালে শুরুর দিকে এলাকাবাসীর দুঃখ লাঘবে স্থানীয় এমপি শওকত মোমেন শাজাহান এই নদীর উপর দেড় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে কাঠের সেতু নির্মাণ করেন। নির্মাণের ২-৩ বছর পর সাঁকোর কিছু খুঁটিসহ পাটাতন নষ্ট হয়ে গেলে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ দিয়ে মেরামত করে । 

সম্প্রতি সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে এমন হয়েছে যে স্বাভাবিক চলাচল দুরূহ হয়ে পড়েছে। তারপরও উপায়হীন পথচারী এই সাঁকো দিয়েই পারাপার হচ্ছে। ঝুঁকিনিয়ে মালবাহী ভ্যান,যাত্রী নামিয়ে দিয়ে সিএনজিচালিত খালি অটো পারাপার করছে প্রায়ই। ফলে প্রতি সপ্তাহেই ঘটছে দুর্ঘটনা। পাটাতনের ফাঁক দিয়ে পা ঢুকে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছে প্রতিদিন।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধুমাত্র এই কাঠের সাঁকোর কারণে এলাকার মানুষ প্রায় ৯কিলোমিটার ঘুরে যানবাহন নিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করছে। কাঠের সাঁকো হওয়ার পর এলাকাবাসী এই নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বিভিন্ন মহলে ধরনা দিয়ে আসলেও কোনো ব্রিজ নির্মিত হয়নি।

কালিহাতি উপজেলার চাদর বিক্রেতা মো. শাহীন মিয়া বলেন, ৭-৮ বছর ধরে এই এলাকায় চাদর ফেরি করি। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। আমি নিজেও পাটাতন ভেঙে পড়ে গিয়েছিলাম। 

ভ্যানচালক আ. মালেক ও মীর স্বপন বলেন, সতেরো বছর ধরে এলাকায় ভ্যান চালাই। বছরে লাকড়িসহ আমাদের ভ্যান কয়েকবার উল্টে দুর্ঘনার শিকার হয়েছি।

লুৎফাশান্তা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাথী আক্তার ও লুবনা বলেন, এমন কোনো সপ্তাহ নেই যে, এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হয় না।

কাউলজানী ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি বলেন, এমপি ও ইউএনওকে গুরুত্বপূর্ণ এই সাকোঁ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এখানে ব্রিজ হবে তারা এমনটা জানিয়েছেন। শুনেছি বরাদ্দও হয়েছে, কিন্তু প্রগ্রেসিভ কিছু পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী রুজদিদ আহমেদ বলেন, এখানে ৮০মিটার একটি ব্রিজ নির্মাণে প্রাথমিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের জিওসহকারে সব তথ্যাদি কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে যা অনুমোদন হলে ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। 

সাঁকো পারপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভ্যানচালক

বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ২০১২ সালে প্রয়াত এমপি কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাজাহানের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। একেনেকে যাওয়ার পর ব্রিজের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় টিআর এবং কাবিখা’র প্রকল্পের মাধ্যমে কাঠের সাঁকোটি করা হয়, যা বর্তমানে ভেঙে গেছে। এবারের বন্যা পরবর্তী প্রকল্পে এখানে একটি ব্রিজের প্রস্তাবনা দিয়েছি এবং প্রি-একনেক হয়ে গেছে।  একনেকের অনুমোদন পেলে পরবর্তী কার্যক্রম শেষে ব্রিজের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

Read Entire Article