নীরবেই লড়ে যান রিয়াদ

1 month ago 15

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ১৬৪ রানের এই পরাজয় আরো বড় হতো, যদি না এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই করতেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাইলেন্ট কিলারখ্যাত এই ক্রিকেটার আরো একবার যেন দেখালেন, নিজের কাজটা চুপিসারে করে যেতেই পছন্দ করেন তিনি।

শুক্রবার ওয়েলিংটনে ১৫৪ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে ৭৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন রিয়াদ। দলের অন্য দশজন সতীর্থ মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পেরেছেন ৬৬ রান! অর্থাৎ দশজনের চেয়ে রিয়াদ একাই বেশি রান করেছেন! রিয়াদও যদি ব্যর্থ হতেন, হয়তো আজ আরো বড় লজ্জার মুখে পড়তে হতো টাইগারদের।

শুধু এই ম্যাচই নয়, এর আগেও এমন অনেকবার বাংলাদেশকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন রিয়াদ। দল খাদের কিনারায় পড়লেই যেন জ্বলে ওঠেন তিনি। চলতি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে খুব বেশি রান না করতে পারলেও শেষ ম্যাচে এসে ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার।

শেষ দিকে ব্যাট করায় সাধারণত রিয়াদের বড় ইনিংসের সংখ্যা বেশি নয়। তবে অল্প রানের ক্যামিও ইনিংসের মাধ্যমেই দলকে অনেকবার সম্মানজন স্কোর গড়ে দিয়েছেন তিনি। বাঁচিয়েছেন লজ্জার হাত থেকে। 

রিয়াদের ব্যাপারে গত মে মাসে কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। বর্তমা ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের লাইভে এসে এ=তিনি বলেছিলেন, রিয়াদ অনেকটা ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো, প্রয়োজন হচ্ছে না তো রান করছে না। কিন্তু দলের যখন প্রয়োজন, রিয়াদই সেই ব্যক্তি যে সবসময় এগিয়ে আসে।

তিনি আরো বলেছিলেন, ও এমন একটা ক্রিকেটার, যদি সে ৪ বা ৫ এ ব্যাটিং করতে পারতো, তখন ওর পরিসংখ্যান অন্যরকম হতো। কিন্তু দলের স্বার্থে আমরা ওকে ৬ এ খেলাই। এইজন্য সে তার ক্যারিয়ারের অনেক রান নষ্ট করেছে। রিয়াদ শুধুই দলের জন্য খেলে। এমন একটা পর্যায়ে খেলে যেখানে বল ও রান সমান খেলতে হবে।

রিয়াদের অল্প রানের ইনিংসগুলো দলের জন্য কতটা উপকারী সে বিষয় উল্লেখ করে সেদিন তামিম বলেছিলেন, আমরা ৭০/৮০ কিংবা ১০০ করে প্রশংসা পাই। কিন্তু রিয়াদ ভাই যে ২৫- ৩০ রানের ইনিংসগুলো খেলেন, ওটার জন্য ওভাবে প্রশংসা পান না। আমরা জানি, রিয়াদ ভাইয়ের ওই ইনিংসগুলো কতটা কার্যকর। তার ওই রানগুলোর জন্যই আমরা অনেক ম্যাচ জিতেছি।

Read Entire Article