নাইকো দুর্নীতি: খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি আজ 

3 weeks ago 13

নাইকো দুর্নীতি মামলায় অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার  বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। 

গত ১৮ মার্চ অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এ মামলার আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মারা যাওয়ায় আইনজীবী আদালতকে অবহিত করেন। এরপর আদালত মামলার অভিযোগ গঠন ও মওদুদের মৃত্যুর বিষয় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ মার্চ দিন ধার্য করেন। 

এর আগে, গত ২ মার্চ আসামি খালেদা জিয়ার পক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দাখিলের আবেদন করা হয়। এরপর শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে খালেদার পক্ষে তার দুই আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাকে হাজিরা দেয়ার অনুমতি দেন আদালত। এদিন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আংশিক শুনানি করেন। এরপর আদালত অবশিষ্ট শুনানির জন্য ১৮ মার্চ দিন ধার্য করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সদ্য প্রয়াত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়। ১০ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। পরে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

Read Entire Article