ট্রেনে উঠলেই সাজতে হয় ‘ভুত’!

1 month ago 28

রেলপথে চলাচলে যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। নানা কারণে ট্রেনের বিলম্ব, ট্রেনে অব্যবস্থাপনার গল্প বেশ পুরোনো। যাত্রীদের ‘নতুন’ দুর্ভোগের নাম ট্রেনের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) থেকে বের হওয়া ধোঁয়া। যে ধোঁয়ায় ‘ভুত’ সাজতে হয় যাত্রীদের।

মুখে থাকা কালি দেখে একজন আরেকজনকে নিয়ে হাসছিলেন। পরক্ষণেই নিজের মুখেও কালির লেপন আছে বুঝতে পেরে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন। কয়েকজন যাত্রী অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে মাঝপথেই ট্রেন থেকে নেমে বিকল্প চিন্তা করেন। 

রোববার রাতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী নোয়াখালী এক্সপ্রেস (১২ ডাউন) ট্রেনে যাত্রীদের ‘ভুত’ সাজার ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনের ধোঁয়ায় কয়েকশ’ যাত্রীর মুখমন্ডলসহ সারা শরীর কালো হয়ে যায়। এরমধ্যে বেশকিছু যাত্রীর মুখমন্ডল এতো কালো হয় যে দেখতে ভুতের মতোই লাগে। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে অনেকের শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। 

রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, ট্রেনটি যে ইঞ্জিন নিয়ে চলাচল করে সেটি ৪০ বছরের বেশি পুরোনো। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ত্রুটি বিরাজ করছে। মূলত ইঞ্জিনের ইনজেকটরে মুখ বড় হয়ে গেলে তেল মিসইউজ হয়ে ধোঁয়ার সঙ্গে বের হয়। নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনেও এ ধরনের কিছু একটা হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যায়।

আরেকটি সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ ট্রেনটি আসতে ৪৫ গ্যালন ইঞ্জিন তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ত্রুটি থাকায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি আখাউড়া পর্যন্ত আসতে ৮০ গ্যালনের মতো তেল লাগে। একইভাবে আখাউড়া থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত যেতেও অতিরিক্ত তেলের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইঞ্জিনটিতে সমস্যা বিরাজ করছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। 

ট্রেনের একাধিক যাত্রী জানান, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর থেকেই ট্রেনের ইঞ্জিন দিয়ে অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হতে থাকে। উপরের পাশাপাশি নিচ দিয়ে বের হওয়া ধোঁয়া যাত্রীদের বগিতেও ঢুকছিলো। এতে ট্রেনের বগিগুলোতে অস্বস্থিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ঠিক পেছনের বগিতে ধোঁয়ার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। তবে আলোর স্বল্পতার কারণে যাত্রীদের মুখমন্ডলসহ শরীর কালো হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রথমে বোঝা যায়নি। ট্রেন থেকে নেমে আলোতে আসার পর একজন আরেকজনকে দেখে বিষয়টি ‘আবিষ্কার’ করেন যাত্রীরা। 

ট্রেন যাত্রী নরসিংদীর আমীরগঞ্জে হাসান ইমাম শান্ত সোমবার বিকেলে বলেন, ট্রেন ছাড়ার পর থেকেই অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হচ্ছিল। মাস্ক পরেও ট্রেনে বসা যাচ্ছিল না। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে ট্রেনেই অনেকের সমস্যা দেখা দেয়। পেছনের দিকে থাকায় আমরা তুলনামূলকভাবে এতো বেশি টের পাইনি। তবে ট্রেন থেকে নামার পর অনেক যাত্রীর মুখ কালো হয়ে থাকতে দেখা যায়।  

ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক) মো. হাবিবুল্লাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলি এক্সপ্রেস (৩ ডাউন) ট্রেন নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার বিকেলে স্টেশনে যাত্রা বিরতিকালে তিনি বলেন, ইঞ্জিন থেকে অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হওয়ার কারণেই এমন হয়। 

আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের লোকোশেড ইনচার্জ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকার কারণে এমন হতে পারে। তবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। ট্রেনটির চালকই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

Read Entire Article