টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের একই রূপ 

1 month ago 12

সংস্করণ পরিবর্তন হয়েছে, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনোভাব পরিবর্তন হয়নি। ওয়ানডে সিরিজ শেষে মাহমুদউল্লাহরা খেলতে নেমেছিলেন টি-টোয়েন্টিতে; কিন্তু পারফরম্যান্স সেই ওয়ানডের মতোই। ব্যাটিং-বোলিংয়েও দেখা গেছে কদর্য অবস্থা। বিব্রতকর, হতশ্রী পারফরম্যান্সে তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৬৬ রানে। 

রোববার ওয়েলিংটনের সেডন পার্কে শুরুটা কী দারুণই না হয়েছিল। অভিষিক্ত নাসুম আহমেদের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। প্রথম চার বল ডট, পঞ্চম বলে এক রান দিয়ে ষষ্ঠ বলে তুলে নিলেন নিউ জিল্যান্ডের অভিষিক্ত ওপেনার ফিন অ্যালেনকে। কী দারুণ! নাসুম তার অভিষেক ম্যাচের প্রথম ওভারেই শূন্য রানে ফেরালেন অভিষেক হওয়া আরেক ক্রিকেটারকে।

দ্বিতীয় উইকেটও তুলে নেন নাসুম। এবার বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলকে বিস্ফোরিত হওয়ার আগে সাজঘরে পাঠালেন। অবশ্য ততক্ষণে ৩১ বলে ৩৫ রান করে ফেলেন গাপটিল। অভিষেকে নাসুমের পারফরম্যান্স রঙিন হলেও বাংলাদেশ দলের আরেক অভিষিক্ত ক্রিকেটার শরিফুল ছিলেন রংহীন। চার ওভারে ৫০ রান দিয়ে ছিলেন উইকেট শূন্য। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকে এটাই সবচেয়ে বাজে বোলিং।

পুরো ওয়ানডে সিরিজে কেন উইলিয়ামসন ছিলেন না, নেই টি-টোয়েন্টিতেও। তার পরিবর্তে খেলতে নামা ডেভন কনওয়ে বাজিমাত করেন। ২২৫ রান নিয়ে হন সিরিজ সেরা। টি-টোয়েন্টিতেও ভুগিয়েছেন কনওয়ে। ৫২ বলে ১১ চার ও ৩ ছয়ে করেন ৯২ রান। মাঠ ছাড়েন অপরাজিত থেকে। মাঝে ৩০ বলে ৫৩ রানের ঝড় তোলেন উইল ইয়ং। হাফসেঞ্চুরির পর ইয়ং ফিরলেও ঝড় থামেনি।

গ্লেন ফিলিপস ১০ বলে ২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে কনওয়ের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন। ততক্ষণে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১১! মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ২১০ রান করে কিউইরা। শরিফুলের মতো মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনরা ছিলেন উইকেয় শূন্য। রান দিয়েছেন হাত খুলে। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ৪৮ ও সাইফউদ্দিন দেন ৪৩! তিন পেসার ১২ ওভারে দেন ১৩৩ রান!

৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন নাসুম। সমান ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন মাহেদী হাসান।

দলে আগে থেকেই নেই সাকিব আল হাসান। ব্যক্তিগত কারণে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নাম সরিয়ে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। কাঁধে চোট পেয়ে মাঠে নামতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। হাল ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ-মিথুনরা। তবে বোলিংয়ের মতো তারুণ্যের মিশেলে গড়া দলের ব্যাটিংটা শুরু হয়েছিল দারুণ।

টিম সাউদিকে ইনিংসের প্রথম বলেই চার মেরে রানের খাতা খোলেন এই সফরে প্রথম খেলতে নামা মোহাম্মদ নাঈম। দ্বিতীয় বল ডট দিয়ে তৃতীয় বলে আরও একটি চার! এভাবেই হয় শুরুটা। অপর ওপেনার লিটন দাস খোলস ছেড়ে বেরোতে পারেননি। চার মেরে আউট হন পরের বলেই। এর এক ওভার পরেই ২৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন নাঈমও। এরপর শুরু হয় বাংলাদেশের উইকেটের মিছিল। ৬ষ্ঠ ওভারে বোলিং করতে এসে ইস শোধি তুলে নেন সৌম্য-মিথুনের উইকেট। দুজনেই সাজঘরে ফেরেন দুই অঙ্কের ঘর ছোঁয়ার আগেই। ৬ ওভারের মধ্যে ৪ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

দলের বিপদে হাল ধরতে পারেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। তিনি সাজঘরে ফেরেন ১১ রান করে। বিপর্যয় সামলে ওঠার চেষ্টা করেন আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দুজনে সপ্তম উইকেটের জুটি থেকে তোলেন ৫৬ বলে ৬৩ রান।  ৩৩ বলে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন আফিফ হোসেন। ৩৪ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানে। ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি হতে পারে নাসুমের বোলিং। এ ছাড়া পাওয়ার নেই কিছু। 

কিউইদের হয়ে একাই ৪ উইকেট নেন ইস শোধি। এ ছাড়া লকি ফার্গুসন নেন ২টি উইকেট।

Read Entire Article