টিভির খবর পাল্টে দিলো বাতেনের জীবন

1 month ago 26

নিজের তরমুজ ক্ষেতে আব্দুল বাতেন

নিজের তরমুজ ক্ষেতে আব্দুল বাতেন

২০১৯ সাল। ঘরে বসে টিভি দেখছিলাম। হঠাৎ খবরে দেখতে পাই বাজার থেকে কেনা তরমুজ খেয়ে এক বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওই সময় আমি সিদ্ধান্ত নেই আমার বাচ্চাকে বাজার থেকে কেনা তরমুজ খাওয়াব না। পরের বছর নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ২০-২৫টি তরমুজের চারা রোপন করি। কিছুদিন পর লক্ষ্য করি পাহাড়ি মাটিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে।

ওই সময়ে ৭০-৮০টি তরমুজ পাই, প্রতিটির ওজন ছিল ১২-১৮ কেজি। তরমুজগুলো খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি, রঙও খুব সুন্দর ছিল। তরমুজগুলো ছিল ট্রপিক্যাল ড্রাগন জাতের। পরে চিন্তা করলাম ফলন যেহেতু ভালো হয়েছে তাহলে বাণিজ্যিকভাবে তা চাষ করা সম্ভব। এ বছর বাণিজ্যিকভাবেই তরমুজের আবাদ করেছি। তরমুজের ভালো ফলনে আমার জীবন বদলে গেছে।

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন, শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বাতেন। তিনি পেশায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের গাড়িচালক।

পাহাড়ের এটেল মাটিতে আব্দুল বাতেনের তরমুজ ক্ষেত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিনই আশপাশের উপজেলা থেকে অনেকে এখানে আসেন তরমুজের ক্ষেত দেখতে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তরমুজ চাষে আগ্রহও দেখিয়েছেন।

আব্দুল বাতেন জানান, বাড়তি আয়ের আশায় ২০১৩ সালে হলদি গ্রামে নিজের ৭৫০ শতাংশ জমিতে নানা জাতের ফলের মিশ্র বাগান গড়ে তোলেন। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে আম, কাগজি ক্রস লেবু, সিডলেস এলাচি লেবু, মাল্টা, পেঁপে, জাম্বুরা ও কমলা চাষ করেন। বাগান থেকে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এবং সন্তানকে বিষমুক্ত তরমুজ খাওয়ানোর ইচ্ছা থেকেই ১০০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেন।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় কৃষি অফিসের বীজের ডিলারের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের ট্রপিক্যাল ড্রাগন জাতের ১০০ গ্রাম তরমুজ বীজ সংগ্রহ করেন। মাল্টা বাগানের ফাঁকে ফাঁকে ২৪০০ চারা করেন। প্রতিটি গাছে ৭-৮টি করে তরমুজ আসে। বয়স ভেদে একেকটি তরমুজের ওজন হয়েছে ৩-৫ কেজি। পরিপক্ক হলে প্রতিটি তরমুজের ওজন হবে প্রায় ১২-১৮ কেজি।

আব্দুল বাতেন জানান, পোঁকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পুরো তরমুজ বাগানে বসিয়েছেন সেক্সফেরোমন ফাঁদ। ওই বাগান থেকে ১২ হাজার ৫শ’ পিস তরমুজ পাওয়া যাবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

পাহাড়ি জমিতে তরমুজের ফলন অবাক করেছেন অনেককে। স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জীবনে প্রথম শুনলাম
পাহাড়েও তরমুজের ফলন হয়। এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। আব্দুল বাতেনকে দেখে অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন।

পাহাড়ে তরমুজ চাষের সফলতা দেখতে আসা পাশর্^বর্তী শ্রীবরদী উপজেলার কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, পাহাড়ে তরমুজ চাষ তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আগামী বছর ২০০ শতাংশ জমিতে তিনি তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান।

ঝিনাইগাতী কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষি বিভাগে চাকরি জীবনে পাহাড়ে তরমুজ ফলনের ঘটনা এবারই প্রথম দেখলাম। আব্দুল বাতেনকে তরমুজের পরিচর্যায় আমরা সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। এরই মধ্যে তার তরমুজ ক্ষেত কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছে।

Read Entire Article