চাঁদা না ওঠায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান স্থগিত করল বিএনপি

2 months ago 44

হঠাৎ করেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পূর্বঘোষিত সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি। কিন্তু ঠিক কী কারণে এমনটা হলো, দলের পক্ষ থেকে তা খোলসা করা হয়নি। তবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

এদিকে কারণটা ভিন্ন উল্লেখ করে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাঙ্ক্ষিত অংকের চাঁদা না ওঠায় তারেক রহমান এ অনুষ্ঠানমালা বন্ধ করে দিয়েছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে গত পয়লা মার্চ দুপুরে বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘোষণা করেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ওই দিনের আয়োজিত দলীয় অনুষ্ঠানমালার ব্যানারে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জিয়াউর রহমানের ছবি থাকলেও কোথাও ছিল না খালেদার নাম বা ছবি। 

এ নিয়ে দলের ভেতর গুঞ্জন চাউর হয়। গর্ভধারিণী মাকে কৌশলে মাইনাস করে নিজেই সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করছেন বলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। সে কারণে খালেদার ছবি পর্যন্ত ব্যানারে রাখতে দেননি তিনি।

উপরন্তু এ অনুষ্ঠানমালা নিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করতে। কিন্তু রিজভী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তারেকের কাঙ্ক্ষিত অংকের চাঁদা ওঠেনি। এ খবর লন্ডনে তার কানে পৌঁছাতেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন সব অনুষ্ঠান স্থগিতের। পাশাপাশি নির্দেশ দেন করোনার দোহাই দিয়ে মিডিয়ার সামনে সেভাবেই প্রচারণা চালাতে। 

সে অনুযায়ী ২৪ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পূর্বঘোষিত সব কর্মসূচি স্থগিত করে বিএনপি।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপি গঠিত জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আমাদের ঘোষিত সব কর্মসূচি স্থগিত করলাম। ৩০ মার্চের পরে পুনরায় এসব কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হবে।

এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিজের ভাগের টাকা না পেলে এর আগেও অনেকবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ভণ্ডুল করেছেন তারেক রহমান। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান স্থগিতও এর বাইরে কিছু নয়।
 

Read Entire Article