ঘানিতে ঘুরল জীবনের চাকা

2 months ago 44

ঘানিতে সরিষা ভাঙিয়ে তেল বিক্রি করে এখন অনেকটা স্বাবলম্বী মো. দেলোয়ার হোসেন।

ঘানিতে সরিষা ভাঙিয়ে তেল বিক্রি করে এখন অনেকটা স্বাবলম্বী মো. দেলোয়ার হোসেন।

মুন্সিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ ঘানিতে সরিষা ভাঙিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে তেল। আর এ সরিষার তেল বিক্রি করে এখন অনেকটা স্বাবলম্বী মো. দেলোয়ার হোসেন। শহরের অলিগলিতে ঘুরে ঘানিতে সরিষা ভাঙছেন তিনি। শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় দেখা গেল এ ভ্রাম্যমাণ ঘানি। এ সময় এক ক্রেতা এক লিটার তেল ২০০ টাকায় ক্রয় করেন। স্বল্পমূল্যে এ সরিষা তেল ক্রয় করার জন্য মুহূর্তে ভিড় বাড়তে থাকে। আর এমন দৃশ্য চোখে ধরা পড়ে।

ভ্রাম্যমাণ ঘানিতে সরিষা ভাঙিয়ে তেল বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন জানান, খাঁটি সরিষার তেল বিক্রির জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ভ্রাম্যমাণ এই ঘানি শহরের বিভিন্ন মহল্লা ও এলাকা ঘুরে বেড়ায়। পথের ধারে, বাড়ির গেটে থেমে ক্রেতার চোখের সামনে সরিষা থেকে তেল তৈরি করে বিক্রি করা হয়।

ছোট ভাই মো. দুলালকে নিয়ে পাড়া-মহল্লায়  যেয়ে ভ্রাম্যমাণ ঘানিতে সরিষা ভাঙিয়ে তেল বিক্রিতে নেমে পড়েন তিনি। তাদের এ ভ্রাম্যমাণ সরিষার ঘানির নাম  দেন ‘নাইম সরিষা তেল’। 

রিকশা ভ্যানের সঙ্গে মোটরসহ যন্ত্রপাতি স্থাপন করে তৈরি করা হয়েছে এই ভ্রাম্যমাণ ঘানি। বেচা বিক্রি ও বেশ ভালো বলে জানান দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া ও সরিষার তেল বিক্রি করেন ভ্রাম্যমাণ সরিষার ঘানির ড্রাইবার মো. শফিকুল ইসলাম ও দুলাল বেপারী।

অপরদিকে হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাসার বলেন, গলির মুখে দেখি সরিষা ভাঙিয়ে তেল বিক্রি হচ্ছে। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। এখন অনেকটাই নিয়মিত ক্রেতা। দাম ও মান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।

জানা গেছে, ঘানিতে ভাঙানো সরিষার তেল প্রতি লিটার ২০০ টাকা। ১ মণ সরিষা ভাঙিয়ে তেল হয় ১৪ লিটার। দৈনিক ৭০/ ৮০ লিটার তেল বিক্রি করা হয়। 

উদ্যোক্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, তার বাড়ি সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউপির সরদারপাড়া গ্রামে। প্রতি মাসে প্রায় চার লাখ টাকার তেল বিক্রি হয়। দুই কর্মীর বেতনসহ খরচ বাদে লাভ থাকে ভালোই। ঘানিতে বেকার জীবনের অভিশাপ মোচন হলো। ঘানিতে ঘুরল জীবনের চাকা।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, করোনার মধ্যে একেবারে বেকার হয়ে পড়েছিলাম। কাজকর্ম নেই। কী করে সংসার চলবে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। পরে এ ভ্রাম্যমাণ ঘানি তৈরির পরিকল্পনা করি। শুরুতে যন্ত্রটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সরদারপাড়া আমার একটি দোকানও আছে।

Read Entire Article