ঘরবাড়ি-ফসলি জমি রক্ষায় নিজেরাই নির্মাণ করলেন ৬ কিলোমিটার বাঁধ 

1 week ago 4

২০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষার জন্য নিজেরাই অর্থ ও শ্রম দিয়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণ করছেন।

২০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষার জন্য নিজেরাই অর্থ ও শ্রম দিয়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণ করছেন।

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় তিন বছর আগে হঠাৎ গতি পরিবর্তন হওয়া তিস্তা নদীর নতুন চ্যানেল দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার পরেও সেখানে নদী শাসনের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা একটি সমীক্ষা করেছেন। সেটা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা বলতে পারছেন না। ফলে ওই এলাকার শংকরদহ মৌজায় ২০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষার জন্য নিজেরাই অর্থ ও শ্রম দিয়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণ করছেন। এতে খরচ হয়েছে সেখানকার নিম্ন আয়ের মানুষের প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এই টাকা জোগাড় করতে তাদেরকে মহাজনের কাজ থেকে উচ্চ মূলে সুদের বিনিময়ে নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ তিস্তা নদীর এই নতুন চ্যানেল তিন বছর আগে সৃষ্টি হওয়ায় এখানকার মানুষ রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ রংপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তারা এর কোনো জবাব পায়নি।

২০১৮ সালের বর্ষায় উজানের ঢলে গংগাচড়া উপজেলার বিনবিনার চর ভেঙে তিস্তা নদীর মূলপ্রবাহ থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে নতুন আরো দুটি গতিপথে প্রবাহিত হয় তিস্তা নদী। ফলে পুরো শংকরদহ মৌজাসহ লক্ষ্মীটারী ইউপির আশপাশের আরো কয়েকটি মৌজার অংশবিশেষ ভেঙে প্রবাহিত হয় তিস্তা নদী।

রংপুরের গংগাচগা উপজেলার রংপুর- কালিগঞ্জ সড়কের তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত মহিপুরে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তরে নতুন গতিপথে ঢলের মুখে ঝুঁকিতে রয়েছে ছোট দুটি ব্রিজ আর বিলীনের শঙ্কায় রয়েছে।

ঢল ও বর্ষার পানি নেমে গেলেও নতুন করে অনেকেই বাড়িঘর করতে পারেনি। আর জমিতে বালু জমে যাওয়ায় কৃষকেরা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। তাই সমস্যা সমাধান না হওয়ায় নিজেরাই গতর খাটিয়ে, চাঁদা দিয়ে তৈরি করছেন বাঁধ। এতে অংশ নিচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

পাানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, মূল নদীটি বাম দিকে ছিল ৫ বা ১০ বছর আগে। সে কারণে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ করা সমীচীন হবে না। একটি সমীক্ষা করে ঢাকায় পাঠানোর পর, কর্মকর্তারা এসে জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন। কিছু ডিজাইন পরিবর্তন করতে বলেছেন তারা। আগে থেকেই সেখানে তিনটি চ্যালেন ছিল। বরাদ্দ এলেই কাজ শুরু করা হবে বলে।

রংপুরের ডিসি আসিব আহসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার তাই করা হবে বলে।

Read Entire Article