গ্যাসলাইন দেয়ার নাম দুই দালালের পকেটে ৩০ কোটি টাকা

2 months ago 42

অভিযুক্ত জাহেদ আলী এবং বজলুর রহমান

অভিযুক্ত জাহেদ আলী এবং বজলুর রহমান

প্রতিটি সংযোগ দিতে নেয়া হয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউপির ৪২ গ্রামে দেয়া হয়েছে অন্তত ১০ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ। আর প্রায় ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই গ্যাস দালাল আর তাদের নিয়োজিত গ্যাস কমিটি।

শুধু নাওড়া এলাকা থেকে গ্যাস দেয়ার জন্য ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার এমনকি জমি বিক্রি করে তাদেরকে টাকা দিয়েছেন। 

কথা ছিল কাগজপত্র ঠিক করে দিবেন তারা। কিন্তু অবৈধ সংযোগ দিয়ে ফুঁলে-ফেপে উঠেছেন দালাল জাহেদ আলী আর বজলু। এ খাত থেকে অন্তত ৩০ কোটি টাকা ঢুকেছে তাদের পকেটে। এদিকে সোমবার বিকেলে ওইসব এলাকার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রশাসন। এতে চনপাড়া পূর্নবাসনসহ কায়েতপাড়ার ৪২ গ্রামের ১০ হাজার পরিবারে গ্যাসের জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউপি ও চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রে গ্যাস নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী জাহেদ আলী ও বজলুর রহমানের ‘শাসন’ কায়েম হয়েছে। এই রাজত্ব চালানোর জন্য তারা ‘গ্যাস কমিটি’ করেছিলো এবং এর মাধ্যমে তারা দিব্যি তাদের শাসন চালিয়েছিলেন। গ্যাস-সংযোগের জন্য কমিটি ফি নির্ধারণ করেছিলো নিজেদের মতো করে। 

চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের এক মুদি দোকানি জানান, বজলু মেম্বারকে গ্যাস সংযোগ নেয়ার সময় ২৫ হাজার টাকা কিস্তিতে তুলে এনে দিয়েছেন তিনি। সেসময় কথা ছিল কাগজপত্র ঠিক করে দিবে। কিছুদিন আগে বজলুর লোকেরা এসে হুমকি দেয় তাদের মিছিল মিটিংয়ে না গেলে সংযোগ কেটে দিবে। এর বাস্তবায়ন ঘটেছে এখন। 

ভাওয়ালিয়া পাড়া এলাকার এক গৃহিনী বলেন, ভাই স্বর্ণের চেইন আর গরু বিক্রি করে জাহেদ আলীকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম গ্যাসের সংযোগের জন্য। লাইন বৈধ হওয়া তো দূরের কথা সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও চনপাড়া পূর্নবাসনের সাধারণ লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাহেদ আলী আর বজলুর বিভিন্ন সভায় লোকসমাগম কম হওয়ার খেসারত পেলো সাধারণ জনগণ।

কায়েতপাড়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, নাওড়া এলাকায় বৈধ গ্যাসের সংযোগ দেয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে জাহেদ আলী।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাহেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা মানুষকে বিনা পয়সায় গ্যাস দিয়েছি। কারো কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়েছি এমন কিছু আমার মনে পড়ছে না। 

অপর অভিযুক্ত বজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে ইউএনও শাহ নুসরাত জাহান বলেন, সারাদেশে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কায়েতপাড়ার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। পুরো উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Read Entire Article