খুলনায় ডাবের দামে সেঞ্চুরি

5 days ago 8

চলছে চৈত্রের খরতাপ। প্রচণ্ড তাপদাহ। প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। বাড়ছে পিপাসা। এ সময় স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের চাই ডাব। ডাবের পানিতে জুড়িয়ে যায় প্রাণ। কিন্তু তারও কোনো জো নেই।

গ্রাম বাংলার অতি সহজলভ্য এই ডাবের মূল্য এখন আকাশ ছোঁয়া। খুলনার জনপদে বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ৬০ থেকে ১শ’ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, ডাবের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও করণীয় কিছু দেখছেন না তারা। কারণ তাদের ধারণা, এ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি বা কমানোর পেছনে কোনো কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে স্বাদ থাকলেও অনেকেই পান করতে পারছেন না সুমিষ্ঠ এ ডাবের পানি।

তবে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, এখন নারকেল গাছে ফল কম। তাই প্রতিযোগিতা করে ডাব সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সে কারণে ডাবের দাম বেশি। এছাড়া সামনে রমজান মাস। রোজাদাররা ডাবের পানি দিয়ে ইফতার করে থাকেন। তখন এর চাহিদাও বহুগুণে বেড়ে যাবে। তাই ডাবের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তারা।

সরেজমিন খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি পিস ডাবের দাম ৬০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৮০ টাকা পর্যন্ত, এমনকি কোথাও কোথাও ৯০ থেকে ১০শ’ টাকা পর্যন্তও বিক্রি হচ্ছে। একটি ডাবের মূল্য যেন সেঞ্চুরি করছে। যা অন্যবারের তুলনায় রেকর্ড গড়েছে।  এর মধ্যে ছোট সাইজ ৬০, মাঝারি ৭০, আর বড় ৮০ টাকা। তবে খুলনা শিশু হাসপাতালের সামনের দোকানে বড় সাইজের ডাব বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, আর নিম্নে ৭০ টাকা। ফলে ডাবের মূল্য শুনে ক্রেতারা হাফিয়ে উঠছেন।

শিশু হাসপাতালের সামনের ডাব বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি পান সিগারেটের ব্যবসার পাশাপাশি ডাব বিক্রি করেন। ছোট সাইজের প্রতি পিস ডাবের দাম ৭০ টাকা,  মাঝারি সাইজের ৯০ টাকা, আর বড় সাইজের ১০০ টাকা।

তিনি দাবি করেন, ‘আমরা এই ডাব গড়ে ৬০ টাকা করে কিনে থাকি। এরমধ্যেও অনেকটা খারাপ থাকে। তাই কোনো কোনোটা বেশি দামে বিক্রি করে পুষিয়ে নেই।’

শিশু হাসপাতালের পাশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ফল বিক্রেতা বলেন, ‘ডাবের চেহারা অনুয়ায়ী দাম আপ-ডাউন করে। সেই হিসাবে ডাবের দাম ৬০ টাকা, আবার কোনোটা ৭০থেকে ৮০টাকা প্রতি পিচ বিক্রি করেন।’

শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা আলমগীর হোসেন জানান, এখানে অনান্য জায়গার তুলনায় ডাবের দাম বেশি। এক দাম ৭০ থেকে ১০০ টাকা। আমি এখান থেকে ডাব কিনেছি ৮০ টাকা করে। ডাবের দাম যদি হয় এতো, তাহলে তো কিনে খাওয়া সাধ্যের বাইরে। আগে ৫টা ডাবের দাম ছিলো ১৬০ টাকা সেই ডাবের দাম এখন ৪০০ টাকা। কিন্তু কি করার, বাধ্য হয়ে কিনে খেতে হচ্ছে।

খুলনা কোর্টের সামনের ডাব বিক্রেতা সেলিনা আক্তার জানান, প্রতি পিস ডাবের দাম ছোট ৬০, মাঝারি ৭০, বড় ৮০ টাকা। তিনি বলেন, ‘পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আমরা যেমন দামে কিনি, এরপর লাভ রেখে বিক্রি করি। যদি দুই পয়সা লাভ না করি তাহলে সংসার চালাবো কি করে। এমনি করোনার কারণে লকডাউন রয়েছে। তাই কাস্টমারও কম, বেচাকেনা মোটেই ভালো না।’

পাশের আরেক ডাব বিক্রেতা হাফিজুল ইসলাম জানান, দিন দিন লোকসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেকে জমিতে বসবাস করার জন্য অন্যান্য গাছের পাশাপাশি নারকেল গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ডাব বিক্রি করতে চায় না। তাই এখন ডাবের সংকট। দাম বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

নগরীর নিউমার্কেটের ডাব বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, ‘ছোট সাইজের ডাবের দাম ৬০ টাকা, বড় ৯০টাকা। নিলে নেন, একদাম। এমনিতেই গাছে ফল কম। পাওয়া যাচ্ছে না, তাই দাম বেশি।’        

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ভাঙ্গনপাড় দিয়াপাড়া গ্রামের ডাব বিক্রেতা নজরুল মল্লিক জানান, তিনি গ্রাম থেকে ডাব নিয়ে খুলনা শহরের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পাইকারি দরে (প্রতি পিচ ৩৮ টাকা থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত) বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এখন গাছে ফল কম। বৃষ্টি বাদল নেই। তাই বেশি দাম দিয়ে গাছ মালিকদের কাছ থেকে ডাব কিনতে হচ্ছে।

খুলনা জজ কোর্টের চাকরিজীবী আমির হোসেন বলেন, ‘শরীরটা ভালো নেই। বেশ কিছুদিন ধরে দুর্বল অনুভব করছি। তাই ডাক্তার বলেছে প্রতিদিন ডাবের পানি পান করতে। কিন্তু ডাবের যা দাম, বিপদে আছি। তবে, এর মূল্য নিয়ন্ত্রণে কোন কর্তৃপক্ষ আছে-কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, ডাবের পানি খাওয়ার ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একাধিক গবেষণায় এসেছে, যদি নিয়ম করে ডাবের পানি খাওয়া যায়, তাহলে একাধিক রোগ শরীরের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। ডাবের পানিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, মেঙ্গানিজ ও জিঙ্ক নানাভাবে শরীর গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ডাবের পানি শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো,  কিডনি ফাংশনের উন্নতি, স্ট্রেস কমানোসহ স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষ করে গরমে রোদ্রের প্রখর তাপে সব কিছু উত্তপ্ত থাকে। সেই সঙ্গে মানুষের দেহে পানির চাহিদাও বেড়ে যায়।  একারণে ডাবের দামও বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা। এ কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে কিনে খাওয়া সম্ভব হয় না।

View Source