কোয়ারেন্টাইনে থাকা হোটেলেই বিয়ে করলেন প্রবাসী

3 weeks ago 18

সিলেটে হোটেল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই অবাধে চলাফেরা করছেন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকা যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা। কোয়ারেন্টাইন ভেঙে একই পরিবারের ৯ সদস্য হোটেলে থেকে পালানোর ঘটনার পর এবার কোয়ারেন্টাইনে থাকাবস্থায় বিয়ে করেছেন এক প্রবাসী। জাঁকজমকপূর্ণভাবে সেই বিয়ের আয়োজনও করা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে থাকা হোটেলেই। এ ঘটনায় সিলেটজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। 

হোটেল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে শুধু বিয়ে নয়, দিনভর ঘুরাফেরা ও বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে কেনাকাটাও করছেন প্রবাসীরা। এমনকি পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন কোয়ারেন্টাইনে থাকা যুক্তরাজ্য ফেরত প্রবাসীরা। সব শেষে হোটেলে এসে রাত কাটান তারা। এসবই হচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে।  

জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ লন্ডন থেকে সিলেটে আসা যাত্রীদের মধ্যে ১১ জনকে সিলেটের লামাবাজারস্থ হোটেল লা-ভিস্তায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এদের মধ্যে দুইজন হলেন সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার জাঙ্গাইল এলাকার বাসিন্দা এক নারী ও তার ছেলে। হোটেলের ৪০১ নম্বর ও ৪০৬ নম্বর কক্ষ তার কোয়ারেন্টাইনের জন্য ভাড়া নেন। কোয়ারেন্টাইন পালন অবস্থায় ২০ মার্চ রাতে ওই হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ করে বিয়ে করলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওই যুবক। বাইরে থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন উভয় পক্ষের আরো প্রায় ৫০ জন মানুষ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খাবার-দাবারও ওই হোটেলে সম্পন্ন হয়। শুধু তাই নয়, ছেলের বিয়ে উপলক্ষে বাইরে বের হয়ে সিলেট নগরের বিভিন্ন বিপণি বিতানে কেনাকাটাও সারেন ওই যুবকের মা। 

তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করে। পরে অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করে। তাদের দাবি, যেখানে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে কোয়ারেন্টাইনে সকল প্রবাসীরাও রাতের খাবরের জন্য উঠেন। যার কারণে সেখানে বেশি মানুষের সমাগম বোঝা গেছে। অবশ্য এই ঘটনার পর হোটেলের ব্যবস্থাপক তারেক আহমদকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাতে হোটেল লা-ভিস্তা ব্যবস্থাপক তারেক আহমদ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় এনে চার থেকে পাঁচ জনের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে না জানিয়ে বেশি মানুষ নিয়ে চলে আসেন। পরে এসে রাগারাগি করলে তারা বিয়ের কাজ শেষ করে বেরিয়ে যান।  

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে সিলেট নগরের অধিকাংশ হোটেলের বিরুদ্ধে। এসব হোটেলে অবস্থানরত প্রবাসীরা হোটেল কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে বের হন বাইরে। স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন। ইচ্ছা হলে কেনাকাটাও করেন। যার পুরোটাই হয় হোটেল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে। গত ২১ মার্চ সিলেট নগরের হোটেল ব্রিটানিয়ায় কোয়ারেন্টাইন ভেঙে পালিয়ে যান একই পরিবারের ৯ সদস্য। এরপর তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। ৯ জনের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ৬ জনকে তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এদিন ওই হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অনেক প্রবাসীকে শপিং করে ফের হোটেলে আসতে দেখা গেছে।
 
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৬১ জন প্রবাসী দেশে এসেছেন। সবশেষ ২২ মার্চ যুক্তরাজ্যে থেকে সিলেটে এসেছন ১৪০ জন প্রবাসী। এরমধ্যে ২৪ জন যাত্রী দুইটি করে টিকা নেওয়ায় তাদেরকে হোম কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা সিলেট নগরের বিভিন্ন হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) শাম্মা লাবিবা অর্ণব বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়ে কঠোর হচ্ছি। যরাই কোয়ারান্টাইন ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেবো। প্রয়োজনে কোয়ারেন্টাইনে থাকার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হবে।’ 

সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, হোটেলে প্রবাসীরা কোয়ারেন্টিন পালন করছেন কী না সেটি নিশ্চিত করবে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। করোনা টেস্টের ফলাফল আসার পূর্ব পর্যন্ত কোনো প্রবাসীর বাইরে বের হওয়ার নিয়ম নেই। কোয়ারান্টাইন যাতে কঠোরভাবে পালন করা হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।’ 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, প্রবাসীরা কীভাবে হোটেল ছেড়ে বাইরে যায় সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব বিষয়ে পুলিশের কোনোও গাফিলাতি থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Read Entire Article