কারাগার থেকে আসামির পলায়ন: ২২ কারারক্ষীর দায়িত্বে ছিলেন একজন

2 months ago 43

দুর্বল নিরাপত্তার সুযোগেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীশালা থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন হত্যা মামলার আসামি ফরহাদ হোসেন রুবেল। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ছগির মিয়ার নেতৃত্বে কারা অধিদফতরের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাস্তিমূলকভাবে রুবেলকে রাখা হয়েছিল কর্ণফুলী ভবনের পঞ্চম তলার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্ধর্ষ বন্দীদের সঙ্গে। সেই ওয়ার্ডসহ আশপাশে রয়েছে বন্দীদের ২০টি ওয়ার্ড। সবকটি ওয়ার্ডে বন্দী থাকলেও ঘটনার দিন দায়িত্ব পালন করেননি কোনো নিরাপত্তাকর্মী। নিয়ম অনুযায়ী বন্দীদের নিরাপত্তায় ২২ জন নিরাপত্তাকর্মী থাকার কথা থাকলেও সেদিন ছিল মাত্র একজন। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল।

তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন (৬ মার্চ) ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে ওয়ার্ড থেকে বের হন রুবেল। ১৩ মিনিট পর, অর্থ্যাৎ ৫টা ২৯ মিনিটে নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে কারাগারের নিরাপত্তা প্রাচীরের বাইরে পড়েন।

তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ছগির মিয়া জানান, কারাগারের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে পালানোর সুযোগ পেয়েছিলেন রুবেল। তাকে রাখা ওয়ার্ডসহ আশপাশের ২০টি ওয়ার্ডে প্রায় দুই হাজারের বেশি বন্দী ছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে নিরাপত্তাকর্মী, একজন নিরাপত্তা ইনচার্জ ও প্রধান কারারক্ষী দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু ঘটনার দিন দায়িত্বে ছিলেন মাত্র একজন। 

পালানোর তিনদিন পর ৯ মার্চ দুপুরে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাল্লাকান্দি চর এলাকার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন রুবেল। তিনি একই উপজেলার মীরেরকান্দি এলাকার শুক্কুর আলী ভাণ্ডারির ছেলে।

এর আগে, ঘটনার দিন সকালে বন্দীদের নিয়মিত রোলকল করার সময় কারা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে রুবেলের অনুপস্থিতি। এরপর এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় প্রথমে জিডি ও পরবর্তীতে মামলা করেন কারাগারের জেল সুপার শফিকুল ইসলাম। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যেও কারাগার থেকে হাজতির উধাও হওয়ার ঘটনায় কারা অভ্যন্তরে শুরু হয় তোলপাড়। 

পরদিন এ ঘটনায় জেলার রফিকুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার আবু সাদাতকে প্রত্যাহার এবং সহকারী প্রধান কারারক্ষী কামাল হায়দারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজিকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ডিসির নির্দেশে তিন সদস্যের আরো একটি কমিটি গঠন করা হয়।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর সদরঘাট থানার এসআরবি রেল গেট এলাকায় আবুল কালাম আবু নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করেন রুবেল। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সদরঘাট থানায় মামলা করেন নিহতের মা মর্জিনা বেগম। ওই মামলায় ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রিপাড়া এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

Read Entire Article