করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

1 month ago 24

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- পিআইডি

নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধির বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রোববার আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো মাস্ক ছাড়া কেউ যেন বাইরে না যান এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন। প্রত্যেকটি সভা বা সিম্পোজিয়াম, সেমিনার বা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সামাজিক দূরত্ব মেনে করবেন। যতদূর সম্ভব খোলা জায়গায় কর্মসূচি করতে হবে। ঘরের মধ্যে করলে করোনার প্রাদুর্ভাব আরো বেশি দেখা দিতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশে একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না। তার সরকার গৃহহীন সবাইকে ঘর করে দেবে। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি যেগুলো বাকী আছে সেগুলোও করে দেব, শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে শতভাগ গৃহকে আমরা আলোকিত করবো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্কুল কলেজগুলো খুলে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু এখন হঠাৎ করে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াতে রোজার ঈদের পরে আমরা স্কুল-কলেজ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেব। আর এই ফাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসবের মেরামত লাগবে সেসব কাজ করবে সরকার। পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের কাজগুলো চলতে থাকবে, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে সে প্রচেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখবো।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। সব অনুষ্ঠান সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। পাশাপাশি গত বছর মানুষের পাশে যেমন দাঁড়িয়েছেন, তেমনি সামনেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষ যেন কষ্টে না থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যা করার করব। কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেও মানুষের পাশে থাকতে হবে। যে দল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের ওপর অনেক দায়িত্ব। মানুষের জন্য খাদ্য বিতরণ, মাস্কসহ স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও নানা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তার সরকার স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছরে বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছি। এতসব অর্জনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শই কারণ। এটা নতুন কিছু নয়, কোনো ম্যাজিকও নয়। এদেশের মানুষ জাতির পিতার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। ৭ মার্চের ভাষণে যা যা করতে বলেছেন, মানুষ তাই করেছে। তিনিই বলেছিলেন, বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আসলেও দাবায়ে রাখা যায়নি, যাচ্ছে না। আমরা তার আদর্শে দেশ পরিচালনা করে এগিয়ে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু তার সংবিধানে যে মৌলিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন আমরা সে আলোকেই পথ চলছি। তার সব কাজ পূর্ণ করছি। তিনি বলেন, গৃহহীন ও ভূমিহীন কেউ যেন বাদ না যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেউ বাদ গেলে জানাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পাঁচ দেশের প্রধান এসেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ২৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে শুভেচ্ছা বার্তা আমরা পেয়েছি। এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এটাই আমাদের সার্থকতা।

তিনি বলেন, সময়ের অভাবে সব বার্তা শোনাতে পারিনি। সব বার্তা রক্ষিত আছে। এগুলো তৃণমূল পর্যন্ত প্রচার করতে হবে। তাদের শুভেচ্ছা বার্তা যেন জনসাধারণ জানতে পারে। সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে এগুলো প্রচারে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।

ইতিহাস বিকৃতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ভিন্নখাতে নেয়া হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর নানা কর্মসূচি নিয়েছিলাম। তারপরও চক্রান্ত থামেনি। ২০০১ এ আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়নি। কিন্তু ফল তো ভালো হয়নি। পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নানা খাতে পিছিয়েছে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সবুজ বাংলা আরো সবুজ করতে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। কোনো জলাশয় যেন অনাবাদি না থাকে। খাদ্য উৎপাদন করে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতি কোনদিকে যায় বলা যায় না। সুতরাং নিশ্চিত করতে হবে যাতে খাদ্য সংকট না হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নিজের খাদ্যের জোগান নিজেই নিশ্চিত করে অন্যকেও দেব।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় প্রারম্ভিক ভাষণ দেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জামান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কোচি ও হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের শহিদসহ সব গণআন্দোলনে আত্মাহুতিদানকারীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

Read Entire Article