কঠিন পরীক্ষায় মিথুনের লেটার মার্কস

2 months ago 40

ম্যাচের আগের মোহাম্মদ মিথুন বলেছিলেন ক্রাইস্টচার্চের উইকেট থেকে সুবিধা পাবেন ব্যাটসম্যানরা। জানিয়েছিলেন সামর্থ্যনুযায়ী খেলতে পারলে পাওয়া যাবে রানও। কথায় আর কাজে মিল রেখেছেন তিনি। ব্যাট হাতে কঠিন মুহুর্তে দলের নাবিক হয়ে পথ দেখালেন, খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ওয়ানডে ইনিংস।

নিউ জিল্যান্ড মানেই বিরুদ্ধ কন্ডিশন। ব্যাটসম্যানদের রান করা শুধু কঠিন-ই নয় কষ্টসাধ্য। উইকেটে থিতু হতে হয়। এরপর হাত খুলে শট খেলতে হয়। কিন্তু মিথুন মঙ্গলবার ২২ গজে গিয়েই একশর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন। কীভাবে পারলেন? জানিয়েছেন ম্যাচের পর।

‘আমি চেষ্টা করেছি বল টু বল খেলা। আমরা সবাই জানি নিউ জিল্যান্ডের কন্ডিশন আমাদের জন্য কঠিন। সুতরাং বেশি ধীরে খেললে রান করা কঠিন। আমি তাই বল দেখে খেলেছি এবং ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছি।’ – বলেন মিথুন।

মিথুনের ইনিংসটির দিকে তাকালেই বোঝা যায়; লড়াই করে টিকে থেকেছেন। আবার বলের চেয়ে রানের সংখ্যা এগিয়ে রেখেছেন। যেটা বাংলাদেশের জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। মিথুন ৫৭ বলে ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলেন ৮৯ মিনিটে। সাজানো ছিল ৬টি চার ও দুটি দৃষ্টিনন্দন ছয়ের মারে।

অথচ দলে তার জায়গা পাকাপোক্ত না। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে খেলার আগে সর্বশেষ খেলেছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০২০ সালের মার্চে। ওই সিরিজে একটি ম্যাচে ৫০ ও একটি ম্যাচে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুটো ইনিংসই ছিল কঠিন সময়ে। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে একাদশে জায়গা হারালেন সাকিব আল হাসানের কাছে।

মিথুন খেলেছেন ৫ নম্বরে, মিডল অর্ডারে। এসব পজিশনে খেলা ব্যাটসম্যানদের বড় দায়িত্ব দ্রুত রান তোলা, ইনিংস মেরামত করা। কম বল খেলে ২২ গজে ঝড় তুলতে হয়। ফিনিশিংয়ে হতে হয় পিকচার পারফেক্ট। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। তাই অধিনায়ক তামিম ইকবাল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে লড়াই করা মিথুনের ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা করছেন, মিথুন তার জায়গা পাকা করে নেবে দলে। 

ম্যাচ শেষে তামিম বলেন, ‘অবশ্যই ও (মিথুন) অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছে। কিন্তু একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে আজ সে ভাল খেলেছে বলে ওর ব্যাপারে কথা বলছি। কিন্তু ও যে পজিশনে সে খেলে বা যে অবস্থায় খেলে এটা আসলে সহজ না। যতই প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার হোক না কেন তার সঙ্গেও যদি এরকম (একাদশে জায়গা হারানো) হয় ব্যাপারটা কঠিন হবে।’

Read Entire Article