ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ব্যবসা ধরে রাখলেন তিন ছেলে

2 weeks ago 20

স্বাদে অতুলনীয় বিক্রমপুরের স্পেশাল চমচম

রকমারি মিষ্টান্ন তৈরিতে দেশ জুড়ে জনপ্রিয় রাজধানীর কাছের জেলা মুন্সিগঞ্জ। স্বাদে অতুলনীয় মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের মিষ্টি এক অপূর্ব সৃষ্টি। বিশেষ করে জেলার শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলের মিষ্টির কদর রয়েছে সর্বত্র। 

রসগোল্লার টসটসে রসে ভরপুর মিষ্টিতে মুখ ভরিয়ে দেয়। আবার ছানা মিষ্টির খাওয়ার স্বাদ যেন মুখে লেগে থাকে অনেক সময় ধরেই। মিষ্টি তৈরিতে সুনাম ধরে রেখেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের আসলাম সুইট মিট, চিত্ত রঞ্জন মিস্টান্ন ভান্ডার, আনন্দ মিন্টু মুখ ও দেশ প্রিয়, নতুন যোগ হয়েছে মিঠাই ঘর এবং শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলের গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডার, চিত্তরঞ্জন সুইট মিট, আনন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডার ও সঞ্জয় ঘি ঘর। এসব মিষ্টি ঘরগুলোতে বাহারী ধরণের প্রায় ২ শতাধিক মিষ্টি তৈরি হয়।

শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলের বরুন কুমার ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, তার বাবা গোবিন্দ এ দোকানটি পরিচালনা করতেন। সে থেকে দোকানটির নাম গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডার। দোকানটির বয়স প্রায় ৬০ বছর। ১৯৯৯ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তারা তিন ভাই মিলে দোকানটি পরিচালনা করছেন। 

বরুন কুমারের ভাই বিশ্ব নাথ দে জানান, তাদের দোকানে স্পেশাল চমচম, কালোজাম, বালুসা, সন্দেশ, বরফি, ছানা, দই, জিলাপি, ঘোল তৈরি হয়। এর মধ্যে খুব বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে স্পেশাল চমচম ও ঘোল। যা খেতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে ভিড় জমায়। কথা হয় ভাগ্যকুল বাজারে গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডার ছাড়াও রয়েছে চিত্তরঞ্জন সুইট মিট, আনন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডার ও সঞ্জয় ঘি ঘর নামের মিষ্টির দোকান মালিকের সঙ্গে। 

তারা জানান, মুন্সিগঞ্জ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিষ্টির অর্ডার আসে। প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে লোকজন জমায়েত বেশি হয়। পদ্মার চর লাগোয়া বাজার হওয়ায় ভ্রমণ পিপাসুদের নিরিবিলি সময় কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা এখন ভাগ্যকুল বাজার।

এ দিকে জেলা শহরে বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি খেতে চাইলে আসলাম সুইট মিট, চিত্ত রঞ্জন, আনন্দ মিষ্টি মুখ, দেশপ্রিয় কথা না বললেই চলে। আবার নতুন করে যোগ হয়েছে মিঠাইঘর নামের মিষ্টি দোকান। আসলাম সুইট মিটের মিষ্টি রয়েছে প্রায় ২ শতাধিক। এর মধ্যে স্পঞ্চ রস গোল্লা, লাল মোহন, ছানার বালুসা এবং সাদা চমচমের স্বাদ যেন মুখে লেগে থাকে অনেক সময় ধরেই।

আসলাম সুইট মিটের মিষ্টি কারিগর মো. হেলাল ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে মিষ্টি তৈরি করে আসছি। আসলাম সুইট মিটে কাজ করছি ৬ বছর ধরে। এর আগে কাজ করছি ঢাকার আলি বাবা মিষ্টি ঘর, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার। এতো বছর দুধ, চিনি, পানি ও আগুনের সঙ্গে মিশে গেছি। এক কড়াই মিষ্টি তৈরি করতে সময় লাগে মাত্র ৩৫ মিনিট, আর ছানা তৈরি করতে সময় লাগে ৩০ মিনিট। তার খুব পছন্দ রসগোল্লা বানাতে। যে মিষ্টিটা তৈরি করি সেটা নিজেরা খেয়ে তার পর বাজারে ছাড়ি। 

এ কারিগর আরো বলেন, এখানে ৭০ জন কর্মচারী কাজ করে। প্রতিদিন ২০ মন দুধ লাগে। আসলাম সুইটের জেলায় ৯টি শাখা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রচুর মিষ্টির অডার আসে। সামনে পহেলা বৈশাখ এতে বিভিন্ন জেলা থেকে মিষ্টির অডার আসছে। 

View Source